Recent Post

এনাকার্ডিয়াম ওরিয়েন্টেল ANACARDIUM ORIENTALE [Anac]

Anac স্মরণ শক্তির হ্রাস, বিশেষত কোন জিনিস বা লোকের নাম মনে থাকে না।
Anac সর্বদা অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও শপথ করার ইচ্ছা।
Anac মনে হয় যেন দুটি ইচ্ছা রয়েছে, একটি করতে বলে অন্যটি বারণ করে।
Anac সন্দেহ প্রবণ, হতাশা ভাব, প্রত্যেক জিনিস ও মানুষকে ভয়, চলার সময় মনে হয় কেউ যেন পিছনে পিছনে আসছে, যেন কেউ চুপিচুপি কথা বলছে।
Anac অদ্ভুদ স্বভাব, গুরু বিষয়ে হাস্য করে আবার হাসির বিষয়ে গম্ভীর হয়ে পড়ে।
Anac পাকস্থলি খালি থাকলে বেদনা হয় কিন্তু আহার করলে উপশম।

উপযোগিতা : হঠাৎ স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলে। সব কিছু স্বপ্ন বলে মনে হয়, স্মৃতিশক্তি হারানোর জন্য অত্যন্ত কষ্ট পায়, সব গোলমাল হয়ে যায়, মনে হিংসার প্রবৃত্তি জন্মায়, কুকর্মের ইচ্ছা জাগে মনে , ব্যবসায়িক কাজকর্ম অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে ।

অভিশাপ দেওয়ার ও শপথ করার (যেমন—এটা করবই করব; তোর সর্বনাশ হবে ইত্যাদি)। অদম্য ইচ্ছা (ল্যাক-ক্যা; লিলি-টি; এসি-নাই। সর্বদা প্রার্থনা করে—স্ট্র্যামো)।

নিজের ও অপরের প্রতি আস্থার অভাব ।

মনে দুইরকমের ইচ্ছাশক্তি কাজ করে—একবার কোন কাজ করতে চায় আবার পরক্ষণেই করতে গিয়ে পিছিয়ে আসে ।

পথচলায় উৎকণ্ঠা, মনে হয় পেছনে কেউ অনুসরণ করছে। চারপাশের সব কিছুতেই (লোকজন, জিনিস পত্র) সন্দেহ জাগে। সমস্ত ইন্দ্রিয় দুর্বল হয়ে যায় রোগী হাইপোকনড্রিয়াক (Hypochondriac)—একধরনের স্নায়ুর গোলমাল যাতে রোগী কল্পনায় অনেক কিছু ভয়ের জিনিস চিন্তা করে, বিষন্ন হয়ে পড়ে সাধারণতঃ হজমের গোলমাল থেকেই এ জিনিসের উদ্ভব। সেই সাথে অর্শরোগ ও কোষ্ঠবদ্ধতা ।

অদ্ভুত রকমের মেজাজ; গুরুতর ব্যাপারে হেসে ওঠে, হাসির ব্যাপারে ভীষণ গম্ভীর হয়ে পড়ে। নিজেকে দৈত্য মনে করে, অভিশাপ দিতে থাকে ও শপথ নিতে থাকে ।

অনুভূতি — শরীরের কোন অংশ লোহার পাত বা ফিতে দিয়ে বাঁধা আছে (ক্যাক্টাস, এসি-কার্ব; সালফ) বা কোন ভোতা কোন কিছু দিয়ে আস্তে আস্তে চাপ দিচ্ছে; যেন শরীরের ভিতরে কোথাও একটা গোঁজ ঢোকানো আছে ।

শিরঃপীড়া – আহারের সময় সম্পূর্ণ উপশম (সোরিন)

ঐ বৃদ্ধি – রাত্রে শোয়া অবস্থায়; যখনই ঘুম আসছে সেই সময়; নড়াচড়ায় ও কাজকর্ম করলে । পাকাশয়জাত বা স্নায়ুবিক শিরঃপীড়া—যারা বসে বসে দিন কাটায় (আর্জ নাই; ব্রায়ো; নাকস) তাদের ।

পান-আহারের সময় গলা গন্ধ হয়ে আসে (ক্যানা-স্যাট, কাভা-কাভা, এসি-নাই)। পান-আহার খুব তাড়াতাড়ি করে, আহারকালে সব রোগলক্ষণ দূর হয় (কেলি-ফস, সোরিন)।

পাকস্থলী – পেট যেন খালি, মনে হয় উপোস করে আছে খালি পেটে এই অনুভূতি আসে—আহারে উপশম হয় (চেলিডো, আয়োডি), ভুক্তদ্রব্য হজম হওয়ার সময় উপশম (ব্রাই-ও নাক্সে ঠিক এর বিপরীত)।

আঁচিল – হাতের তালুতে (নেট্রাম-মি)।

মলত্যাগের প্রবল ইচ্ছা মলত্যাগের চেষ্টা করলে কিন্তু মূলত্যাগ না হয়ে মলবেগ চলে যায় মনে হয় মলদ্বার অক্ষম, পক্ষাঘাগ্রস্ত সেইসাথে মলদ্বারে যেন গোঁজ দেওয়া আছে এই অনুভূতি থাকে ।(অনিয়মিত পেরিষ্টালটিক ক্রিয়া বা অতি-ক্রিয়া = নাক্স)। (পেরিষ্টালটিক মিশন = অন্ত্রে জোঁকের মত গতিবিশিষ্ট একরকমের ক্রিয়া বা স্বেচ্ছাকৃত, যাতে পাকস্থলী হতে বর্জ্য পদার্থ মলরূপে এসে বৃহদান্ত্রে জমা হয়ে মলরূপে বের হয়ে আসে ।অল্পক্রিয়ায় কোষ্ঠবদ্ধতা ও অতিক্রিয়ায় উদরাময় হয়)।

সম্বন্ধ – রাস-রেডি; রাস-ট: রাস-ভেনে তুলনীয়। রোগলক্ষণ ডান হতে বায়ে যাওয়ার প্রবণতা ।লাইকো ও পালসের পরে ভাল কাজ দেয়। এনাকার্ডিয়ামের আগে ও পরে প্লাটিনা উপযোগী ।

শক্তি — ৩০, ২০০ হতে উচ্চশক্তি ।

স্নায়বিক দুর্বলতাগ্রস্ত রোগীদের অধিকাংশই এনাকার্ডিয়ামের রোগী দেখা যায়। এই ধরনের রোগীদের মধ্যে এক প্রকার স্নায়বিক অজীর্ণরোগ দেখা যায়, যা খাওয়ার পর উপশম হয়, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, বিষন্নতা ও উত্তেজনা, সকল ইন্দ্রিয়ের কার্যকরী শক্তি হ্রাস (ঘ্রানশক্তি, দৃষ্টিশক্তি, শ্রবনশক্তি)। সিফিলিস ধাতুগ্রস্ত রোগী প্রায়ই এই জাতীয় উপসর্গে কষ্ট পায়। লক্ষনের সাময়িক বিরাম। ছাত্রদের মধ্যে পরীক্ষা ভীতি। সকল ইন্দ্রিয়ের দুর্বলতা, দৃষ্টি, শ্রবন, প্রভৃতি। কাজ করতে অনিচ্ছা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, শপথ করা ও অভিশাপ দেবার অদম্য ইচ্ছা। শরীরের বিভিন্ন অংশে গোঁজ আটকিয়ে থাকার ন্যায় অনুভূতি। চোখ, সরলান্ত্র, প্রস্রাবথলি প্রভৃতি, এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশ বন্ধনী দ্বারা আবদ্ধ বলে মনে হয়। পাকস্থলীর মধ্যে খালি বোধ, আহারে সকল উপসর্গের সাময়িক উপশম হয়। এটি একটি নিশ্চিত, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ, বারে বারে প্রমাণিত হয়েছে। এই ঔষধের চামড়ার লক্ষণ রাসটক্সের অনুরূপ এবং এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি রাসটক্সের ক্রিয়ানাশক বা দোষঘ্ন ঔষধের মধ্যে মূল্যবান।

মন – নির্দিষ্ট ধারণা। অবাস্তব বস্তুর কল্পনা, রোগীর মনে হয় তার ভিতর দুটি পৃথক ব্যক্তিত্ব বা ইচ্ছা শক্তি আছে। চলা-ফেরা করার সময় মানসিক আতঙ্ক, মনে হয় কেউ যেন তাকে অনুসরন করছে। প্রচণ্ড বিষন্নতা ও হাইপোকনড্রিঅ্যাসিস, তৎসহ উত্তেজনা প্রবণ ভাষা ব্যবহারে প্রবণতা যুক্ত। মস্তিষ্কের ক্লান্তি। স্মৃতিশক্তির বিকলতা। অন্যমনস্ব ভাব। খুব সহজেই বিরক্ত হয়। বিদ্বেষ পরায়ণ, নিজেকে পাপী বলে মনে করে। নিজের সম্পর্কে বা অপরের সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসের অভাব। সন্দেহপ্রবণ (হায়ো)। অনেক দূরের কথা শুনতে পায় বা মতে ব্যক্তির কথা শুনতে পায়। বার্ধক্যজনিত মানসিক শক্তির বিকলতা। যাবতীয় নৈতিক সংযমের অভাব।

মাথা – মাথা ঘোরা। চাপ দেবার মত বেদনা, অনেকটা কোন ছিপি বা গোঁজ জাতীয় বস্তুর সাহায্যে চাপ দেবার মত। মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি -কপাল অংশে, মাথার পিছনের অংশে, রগের দিক ও মাথার চাঁদিতে এই জাতীয় যন্ত্রণার অনুভূতি হয়ে থাকে, খাবার সময় উপশম। মাথায় চুলকানি ও ছোট ছোট ফোঁড়া।

চোখ  – উপরের চক্ষুকোটরে অনেকটা কোন ছিপি দিয়ে চাপ দেবার মত অনুভূতি। দৃষ্টি অস্পষ্ট। দৃষ্ট বস্তু যেখানে আছে, তার থেকে দূরে আছে বলে মনে হয়।

কান – কানের ভিতর ছিপি জাতীয় কিছু দিয়ে চাপ দেবার ন্যায় অনুভূতি। শুনতে কষ্ট হয়।

নাক — বারে বারে হাঁচি। ঘ্রান শক্তির বিকৃতি। সর্দি তৎসহ হৃদকম্প, বিশেষতঃ বয়স্কদের।

মুখমণ্ডল – চোখের চারপাশে গোলাকার নীলচে দাগ। মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে।

মুখগহ্বর – যন্ত্রণাদায়ক ফোস্কা, তীব্র দূর্গন্ধ। জিহ্বা ফুলে গেছে বলে মনে হয়, এবং এই কারণে কথা বলতে ও জিহ্বা নাড়া-চাড়া করতে কষ্ট হয়, তৎসহ মুখ গহ্বরের লালা নিঃসরণ। ঠোটের চার পাশে জ্বালা, যেন লঙ্কা লেগেছে এরূপ অনুভূতি।

পাকস্থলী – পরিপাক শক্তির দুর্বলতা, তৎসহ পূর্ণবোধ ও পাকস্থলীর স্ফীতি। পাকস্থলী খালি বলে মনে হয়। ঢেকুর, বমি বমি ভাব, বমি। এনাকার্ডিয়ামের অজীর্ণ, আহারে উপশম। খাবার সময় বা পান করার সময় দম বন্ধ হবার প্রবণতা যুক্ত। খুব দ্রুত খাবার গিলে ফেলে ও পান করে।

উদর – অন্ত্রের মধ্যে ছিপি আটকিয়ে থাকার ন্যায় এক প্রকার অস্বস্তিকর বেদনা। পেটের ভিতর গুঢ় গুঢ় শব্দ হয়, খামচে ধরে ও মোচড়ায়।

সরলান্ত্র – অন্ত্রে4র নিষ্ক্রিয়তা। অতৃপ্ত বেগ, সরলান্ত্র নিষ্ক্রিয় বলে মনে হয়। ছিপি আটকিয়ে থাকার মত অনুভূতি। গুহ্যদ্বারের আক্ষেপিক সঙ্কোচণ, এমনকি গরম মল ও খুব কষ্ট করে বের হয়। গুহ্যদ্বারে চুলকায়, সরলান্ত্র থেকে রস নিঃসরণ। মলত্যাগের সময় রক্তস্রাব। যন্ত্রণাকর অর্শ।

পুরুষের রোগ – কামোত্তেজনা বৃদ্ধিকর চুলকাণি, কামোত্তেজনা বাড়িয়ে থাকে, স্বপ্ন না দেখেও বীর্যপাত। মলত্যাগের সময় প্রষ্টেট গ্রন্থি থেকে রস নিঃসরণ।

 স্ত্রীরোগ-  প্রদরস্রাব, তৎসহ টাটানি ব্যথা ও চুলকাণি। ঋতুস্রাব অল্প।

শ্বাস-প্রশ্বাস — বুকের ভিতর ছিপি আটকিয়ে থাকার ন্যায় অস্বস্তিকর চাপবোধ। শ্বাসরোধক অনুভূতি, তৎসহ শরীরের অভ্যন্তরে গরমভাব ও মানসিক আতঙ্ক এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাবার জন্য রোগী মুক্ত বাতাসে বার হয়ে পড়ে। কাশি কথা বললে বৃদ্ধি পায়। আহারের পর কাশি তৎসহ ভুক্ত খাদ্যবস্তুর বমি এবং মাথার পিছনের অংশে যন্ত্রণা।

হৃদপিণ্ড – হৃদকম্প, তৎসহ স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, তৎসহ বৃদ্ধদের সর্দি। হৃদপিণ্ড স্থানে সূঁচ ফোটাবার মত বেদনা। হৃদপিণ্ডের বাতজ, রোগ তৎসহ হৃদপিণ্ড স্থানে দুটি সূঁচ ফোটাবার ন্যায় অনুভূতি।

পিঠ – কাঁধে অস্বস্তিকর চাপ, যেন কাঁধের উপর কোন ভার রাখা আছে। ঘাড় আড়ষ্ট।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ – বুড়ো আঙ্গুলের স্নায়ুশূল। পক্ষাঘাতের নখ দূর্বলতা। হাঁটুতে পক্ষাঘাতের ন্যায় অনুভূতি। পায়ের ডিমে খিল ধরা। পাছায় ছিপি আটকিয়ে থাকার ন্যায় চাপবোধ। হাতের তালুতে আঁচিল। হাতের আঙ্গুলের স্ফীতি তৎসহ ফোস্কার মত উদ্ভেদ।

ঘুম — নিদ্রাহীনতার সাময়িক আক্রমণ বেশকিছু রাত্রি পর্যন্ত স্থায়ী হয়। আতঙ্কযুক্ত

স্বপ্ন।

চামড়া — তীব্র চুলকাণিযুক্ত একজিমা তৎসহ মানসিক উত্তেজনা, ফোস্কার মত উদ্ভেদ, ফোলা আমবাত, পয়জন ওকবা রাসটক্সের মত চর্মোদ্ভেদ। (জেরোফিন, গ্রিন্ডেল, ক্রোটন)। লিচেন প্ল্যানাস, স্নায়বিয় একজিমা। যাতে আঁচিল। অগ্রবাহুতে ক্ষতের সৃষ্টি।

কমা-বাড়া – বৃদ্ধি, উষ্ণ জলের প্রলেপে।

উপশম : আহারে। পাশ ফিরে শুলে,কমা বাড়া ঘর্ষনে।

সম্বন্ধ – দোষগ্ন  গ্রিন্ডেলিয়া, কফিয়া, জুগন্যান্স, রাস, ইউক্যালিপটাস।

তুলনীয় – এনাকার্ডিয়াম অক্সিডেনটেন (ক্যাশুনাট) (ইরিসিপেলাস, মুখমণ্ডলে ফোস্কার ন্যায় উদ্ভেদ), অনুভূতিহীন কুষ্ঠ, আঁচিল, কড়া, ক্ষত, পায়ের তলার চামড়া ফাটা।

রাস, সাইপ্রিপেড, চেলিডন, জেরোফিল। প্ল্যাটিনা, এই ঔষধের পরে ভালো কাজ করে। সিরিয়াম সাপেন্টিনা (শপথ করা)।

শক্তি – ৬ষ্ঠ থেকে ২০০ শক্তি।

এই ঔষধটি অদ্ভুত মনোভাব ও ধারণায় পরিপূর্ণ। মনটি দুর্বল বলিয়া মনে হয়, মানসিক শক্তির সম্পূর্ণ লোপ না হইলেও প্রায় তদ্রূপ অবস্থা দেখা দেয়। মনে হয়, যেন স্বপ্নের মধ্যে রহিয়াছে, সবকিছুই অদ্ভুত বোধ হয়, কোন কিছু বোধগম্য হইতে দেরী হয়। অত্যন্ত ক্রোধ, সবকিছুতেই বিচলিত হয়, অভিসম্পাত দেয়। স্মৃতিশক্তি দুর্বল। এক মুহূর্ত পূৰ্ব্বেও যাহা মনে ছিল, তাহাও ভুলিয়া যায়। তাহার সমস্ত বুদ্ধিশক্তি লোপ পায় এবং সে যেন স্বপ্নের মধ্যে ঘুরিয়া বেড়ায়। মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, পৰ্য্যায়শীলতা। মনের দুর্বলতা ও ধীরতা থাকিয়া যায়। সে আপন মনে দুইটি বিপরীত ভাব লইয়া বিবাদ করে। এটা করিবে, কি ওটা করিবে, তাহা স্থির করিতে পারে না, সে ইতস্ততঃ করে এবং সচরাচর কিছুই করে না। বিশেষতঃ কোন কাজের সময় উহা ভাল কি মন্দ তাহা স্থির করিতে পারে না। সে শুনে, যেন কোন স্বর তাহাকে ইহা কি উহা করিতে আদেশ করিতেছে এবং মনে হয়, সে যেন একটি সৎ ও একটি অসৎ ইচ্ছার দ্বন্দ্বের মধ্যে রহিয়াছে। তাহার অসৎ ইচ্ছা তাহাকে অত্যাচার ও অবিচারের কাৰ্য্য করিতে বাধ্য করে, কিন্তু তাহার সৎ ইচ্ছা তাহাকে প্রতিরুদ্ধ এবং নিবারিত করে। সুতরাং দুইটি ইচ্ছার মধ্যে, দুইটি প্রবৃত্তির মধ্যে একটা বিবাদ চলিতে থাকে। মনুষ্য-চরিত্র সম্বন্ধে সামান্য জ্ঞান আছে—এরূপ ব্যক্তি যদি এই ঔষধটির বিশ্লেষণ করেন, তাহা হইলে দেখা যাইবে যে, রোগীর বাহ্যিক চৈতন্য বিচলিত হইয়াছে বটে, কিন্তু তাহার অন্তর্জ্ঞান ঔষধ দ্বারা বিকৃত হইতে পারে নাই। তাহার বাহ্যিক কৰ্ম্মশক্তি, বাহ্যিক প্রভাবে ক্রমাগত উত্তেজিত হইতেছে, কিন্তু তাহার অন্তর্জ্ঞান যেখানে তাহার বিবেক থাকে, তাহা তাহাকে সংযত করিয়া, তাহার প্রবৃত্তিকে কার্যে পরিণত করিতে ক্ষান্ত করিতেছে। যখন এই ঔষধের ক্রিয়া বাস্তবিক সৎ লোকের হয়। তখনই এরূপ দেখা। যায়। বাহ্যিক প্রবৃত্তি উত্তেজিত হইলে তাহার মধ্যে দ্বন্দ্ব জাগে, কিন্তু অসৎ লোকের কোন সংযম থাকে না এবং তাহার এরূপ লক্ষণ উপস্থিত হয় না।

অবান্তর দর্শন— যেন তাহার এক কাঁধে একটি অসুর এবং অপর কাঁধে একজন দেবদূত বসিয়া আছেন। সে বিদ্বেষপরায়ণ এবং তাহার অভিসম্পাত করার ও শপথ করার দুর্দম্য ইচ্ছা। যখন গম্ভীর হওয়া উচিত তখন সে হাসে। এইরূপ চলিতে থাকে যতক্ষণ না তাহার বাহ্যিক ইচ্ছাগত সবকিছুই উল্টাইয়া যায়। অন্তর্মনের উদ্বেগ অর্থাৎ আন্তরিক ইচ্ছা এই বাহ্যিক গোলযোগে বিপর্যস্ত হইয়া পড়ে। লোকটি যে কিছুই বুঝিতে পারে না তাহা প্রকাশ করিবার চেষ্টায় বলা হইয়াছে “ইচ্ছাশক্তি ও বিচারবোধের মধ্যে দ্বন্দ্ব।” “মনে করে, যেন তাহার দুইটি ইচ্ছা আছে।” এই শেষের উক্তিটি অপেক্ষাকৃত ভাল। এই অবস্থা অবশেষে বাহ্যিক প্রবৃত্তিকে নষ্ট অথবা অবশ করিয়া দেয় এবং লোকটি যদি স্বভাবতঃই খারাপ থাকে এবং এনাকার্ডিয়ামের এই অবশকারী শক্তির অধীন হইয়া পড়ে তাহা হইলে সে প্রচন্ডতার কাৰ্য্য করিতে থাকে। দুষ্টলোক বিবেক হইতে নহে, কিন্তু আইনের ভয়ে সংযত থাকে। এনাকার্ডিয়াম তাহার বাহ্যিক ইচ্ছাশক্তিকে অবশ করিয়া দিয়াছে; এবং তাহার মানসিক শক্তি লোপ পাইয়াছে; এখন সে তাহার বিকৃত আত্মচৈতন্য হইতে অত্যাচারমূলক কাৰ্য্য করিতে থাকিবে। ঔষধটি মনের এক অংশের উপর এরূপ কাৰ্য্য করে যে, উহা হইতে অনেক কিছু শিক্ষা করা যায়। আমি এনাকার্ডি, অরাম’ এবং আর্জেন্টাম’ হইতে মানব মনের উপর ঔষধের অদ্ভুত ক্রিয়া সম্বন্ধে অনেক কিছু শিক্ষা করিয়াছি। মানব মনের উপর ঔষধের ক্রিয়া মনোবিজ্ঞানের সিদ্ধান্তগুলিকে নিশ্চিতই পৃথক করিয়া লইতে হইবে। এইভাবে আমরা প্রকৃত তথ্যে উপনীত হই এবং অনেক অনুমানকে ছড়িয়া দিতে পারি। তাহার ধারণা হয়, যেন কোন কিছুই প্রকৃত নহে, সবকিছুই যেন স্বপ্ন। যে ধারণা করে তাহা আর বদলায় না। তাহার মনে হয়, সে যেন দুই জন। বাহ্যিক এবং আন্তরিক ইচ্ছাশক্তির মধ্যে যে পার্থক্য আছে তৎসম্বন্ধে অস্পষ্ট জ্ঞান একটি ইচ্ছা যে দেহ অপর ইচ্ছাটি যে মন তদসম্বন্ধে জ্ঞান হইতে এই ধারণা জন্মে। সে মুক্তি সম্বন্ধে চিন্তা ও আলোচনা করে। তাহার দ্বৈত ইচ্ছার

আর একটি পরিণতি,—যেন একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাহার পার্শ্বে রহিয়াছে। যেন তাহার ডান পার্শ্বে একটি ও বাম পার্শ্বে একটি অদ্ভুত মূর্তি, তাহার সাথে সাথে চলিতেছে। এই মানসিক অবস্থা তাহাকে পাগল করিয়া তুলে। তাহার মনোভাব এবং অনুভূতি পুনঃ পুনঃ বদলায়। এই মুহূর্তে সে একটি ব্যাপার দেখে, পরমুহূর্তেই আর তাহা বুঝিতে পারে না। এক মুহূর্তে সে দেখে যে, এই তার শিশু আবার পরমুহুর্তেই দেখে এত সে নয়। এই মুহূর্তে উহা মোহ, অপরমুহুর্তে উহা ভ্রান্তি। এক মুহূর্তে ভাবে ইহা এইরূপ পরমুহৰ্ত্তে বহু কারণ দেখিতে পায় যে ইহা ঐরূপ নহে। মোহ ভ্রান্তির বর্ধিত অবস্থা। রেপার্টরিতে আমরা মোহ ও ভ্রান্তির জন্য একই ঔষধ দেখিতে পাই; কারণ, উহা পরিমাণের তারতম্যের বিষয় মাত্র। যখন বুদ্ধিশক্তি সামান্যমাত্র আক্রান্ত হয়, তখন উহা ভ্রান্তি এবং সে যাহা দেখে মনে করেন যে, তাহা সেরূপ নহে। সে দৈত্য দেখে এবং সে তাহার বুদ্ধিবৃত্তি হইতে বুঝে যে সেখানে দৈত্য থাকিতে পারে না, তখন সে উহাকে তাড়াইয়া দিতে চায়। ইহা ভ্রান্তি অথবা মোহ তাহাতে কিছু আসে যায় না, কারণ উভয়েই এক লক্ষণ, পার্থক্য মাত্র পরিমাণের তারতম্য এবং এইজন্যই রেপার্টরিতে মোহ ও ভ্রান্তিকে পৃথক স্থান দেওয়া হয় নাই।

মনুষ্যমনের বিকৃত অবস্থাকে পুনরায় স্থিরবুদ্ধি ও স্নেহ, ভালবাসা প্রভৃতি গুণে ফিরাইয়া আপনার পক্ষে এনাকার্ডি, ‘হায়স’, ষ্ট্র্যামো এবং ‘বেল’ মূল্যবান ঔষধ। যখনই কোন ঔষধে মানুষের মনে কোন কিছু করিবার ইচ্ছা জাগে, তখনই উহা ইচ্ছাশক্তিকে আক্রমণ করে এবং তারপর যখন উহা বুদ্ধিবৃত্তিকে আক্রমণ করে তখন সে বুদ্ধিশক্তির প্রেরণায় কাৰ্যটি করে। ঔষধ  এই ইচ্ছাশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তি উভয়ের উপরের ক্রিয়া করে।

বিষন্ন মন, ভগ্ন হৃদয়, তাহার ভয় হয়, কেহ তাহাকে অনুসরণ করিতেছে; চোর আসিয়াছে কিনা খুঁজিয়া দেখে, মনে করে তাহার শত্রু জন্মিয়াছে প্রত্যেক কিছুকে, প্রত্যেক ব্যক্তিকে ভয় করে। মানসিক উৎকণ্ঠায় পূর্ণ থাকে। শান্তি থাকে না। সমস্ত জগৎ হইতে সে বিচ্ছিন্ন হইয়া পড়ে; এবং তাহার করণীয় কাৰ্য্য সম্বন্ধে হতাশ হইয়া পড়ে। সে অতিমাত্রায় ভীরু হয়। ভয় করে যে সাঙ্ঘাতিক কিছু ঘটিবে। বিষাদিত, অপ্রসন্ন, ক্রোধপ্রবণ। অসামাজিক, দুৰ্বল স্মৃতিশক্তির জন্য দুঃখ করে। সামান্য কারণে অত্যধিক রাগান্বিত হইয়া পড়ে। একটি বিশেষ লক্ষণ এই যে তাহার সমস্ত নৈতিক জ্ঞান নষ্ট হইয়া যায়। সে মনে করে, সে নিষ্ঠুর হইয়া পড়িয়াছে। রাগ না হইলেও অপরের দেহে আঘাত করিতে পারে। নিষ্ঠুর, হিংসুক, দুর্বিনীত।  মানসিক উত্তেজনার কুফল। দুৰ্বল চিত্ত। ভয় পাওয়া অথবা দুঃখ পাওয়ায় কুফল। ইহা বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিক ইচ্ছার মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকিলে, ধৰ্ম্মোন্মাদনায় উপযোগী। ইহা হায়সের’ সদৃশ ঔষধ।

খাইলে অনেক উপসর্গের শান্তি হয়।

শরীরের সর্বত্র, মস্তকে, চক্ষে, নাভিদেশে এবং মেরুদন্ডের নীচের দিকে চাপের অনুভূতি, উহাকে একটি গোঁজ পুরিয়া দেওয়ার ন্যায় অনুভূতি বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। জিনিষগুলি যেন অনেক দূরে আছে—এরূপ দেখায়। জিনিষগুলি অদ্ভুত দেখায়, কখন কখন ভীতিপ্রদ দেখায় । গন্ধ সম্বন্ধে বিভ্রান্তি, যেন কাঠ পুড়িতেছে, যেন পায়রার বিষ্ঠা পুড়িতেছে, এরূপ গন্ধ পায়। পুরাতন শুষ্ক সর্দি।

সারা দেহ জুড়িয়া বহু লক্ষণ আছে, কিন্তু বোধ হয় মনই প্রধান স্বরূপটি উপস্থিত করে এবং মানসিক লক্ষণগুলি বাদ দিয়া ইহা কদাচিৎ ব্যবহৃত হয়। সাধারণতঃ মানসিক লক্ষণগুলি বলবৎ থাকিলে শারীরিক লক্ষণগুলিও ঐ সঙ্গে আসিয়া পড়ে। রোগী কম্পন ও পক্ষাঘাতিক দুৰ্বলতায় পূর্ণ। ধনুষ্টঙ্কার, অপস্মর। মনে করে যেন শরীরের চারিদিকে, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বা মস্তকে একটি হাল লোহা বা বন্ধনী দিয়া বাঁধিয়া রাখা হইয়াছে, একটি গোঁজ প্রবিষ্ট করিয়া চাপ দেওয়া হইতেছে।

ইহার উদ্ভেদগুলি অনেক অংশে রাস টক্সে’র উদ্ভেদের সদৃশ; ইরিসিপ্লাসের উদ্ভেদ কৃষ্ণবর্ণ, কৃষ্ণাভ এবং দুষ্ট প্রকৃতির। ইহা ‘রাস টক্স’ বিষাক্ততার একটি প্রতিবিষ। সর্বাঙ্গে উদ্ভেদ। সাধারণতঃ হলদেবর্ণ ফুস্কুড়ি। উদ্ভেদগুলিতে অসহ্য চুলকানি। নেট্রাম মিউরে’র ন্যায় হাতের উপর আঁচিল । চৰ্ম্ম অত্যন্ত জ্বালাকর। মনে হয়, রাস টক্স শ্রেণীর ঔষধগুলির লক্ষণসমূহের সহিত ইহার যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে।

(Anacardium-ana, pertaining to or resembling; Cardia, heart, the fruit being heart-shaped) অপর নাম – মার্কিং নাট ট্রি (Marking-Nut Tree)

মালাক্কা বিন (Malacca-Bean)

ইহা এনাকার্ডিয়েন্সি জাতীয় উদ্ভিদ। এর পেষিত বীজ থেকে মূল অবিস্ট তৈরী করা হয়।

এনাকার্ডিমের – মূলকথা

১। পাকস্থলী খালি থাকলে বেদনা হয়, খেলে সেই বেদনায় উপশম,

জন্মে।

২। সরলান্ত্রের ক্রিয়ার অপ্রতুলতা বা পক্ষাঘাতিক অবস্থা থেকে উৎপন্ন পুনঃ পুনঃ নিস্ফল মলত্যাগ প্রবৃত্তি মলদ্বারে যেন একটা পিণ্ড বা গোঁজ রয়েছে , এরূপ অনুভূতি; মলত্যাগ করতে চেষ্টা করলেই

মলত্যাগ করার প্রবৃত্তি চলে যায়।

৩। স্মৃতিশক্তির ক্ষীণতা; অভিশাপ দেওয়া ও শপথ করবার দুর্নিবার প্রবৃত্তি। রোগী মনে করে তার দুটি ইচ্ছাশক্তি, এক ইচ্ছা করতে আদেশ করে, অপর ইচ্ছা করতে বাধা দেয়।

৪। শরীরের বিভিন্ন অংশে যেন ভোঁতা গোঁজ পোঁতা আছে, এরূপ অনুভূতি ও বেদনা।

৫। রোগীর নিকটবর্তী সকল বস্তু ও ব্যক্তিকেই সে সন্দেহের চোখে দেখে; হেঁটে চলার সময় সে উৎকণ্ঠিত থাকে; তার মনে হয় কেউ যেন তাকে অনুসরণ করছে বা কেউ যেন তার পিছু পিছু আসছে – সকল ইন্দ্রিয়ের দুৰ্বলতা।

এনাকার্ডিয়াম – পরিক্রমা

এনাকার্ডিয়াম ওরিয়েন্টেল একটি অতি মূল্যবান ঔষধ। কিন্তু আমার মনে হয় যে, আমাদের সম্প্রদায় কর্ত্ত্বক ইযহা যথেষ্ট সমাদৃত হয়নি। ইহা সেই বহু শীর্ষরোগ ডিসপেপসিয়া বা অগ্নিমান্দ্য রোগের বিশেষ ফলপ্রদ ঔষধ; ইহাই সচরাচর ব্যবহৃত হওয়া উচিত ছিল কিন্তু এর পরিবর্তে নাক্স ভমিকাহ নির্বিচারে ব্যহৃত হয়। তবে  ‍দু’টি ঔষধই এক্ষেত্রে উৎকৃষ্ট এবং কেবলমাত্র উভয়ের প্রভেদ নির্ণয় করেই যথাযোগ্য ঔষধটিকে মনোনয়ন কতে হয়।

পার্থক্য –

এনাকার্ডিয়ামে পাকস্থলীতে বেদনা আছে এবং উহা কেবল পাকস্থলী খালি হলেই উপস্থিত হয় এবং খেলে উপশমিত হয়। নাক্স ভমিকার বেদনা আহারের দু’তিন ঘণ্টা পরে অত্যন্ত বেড়ে উঠে এবং স্থায়ী হয়; বিশেষ করে যে পৰ্য্যস্ত না হজমক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়, যেই সময় পর্যন্ত কষ্ট বাড়ে এবং তারপর হজমক্রিয়া শেষ হলেই শান্তি জন্মে। এনাকার্ডিয়ামে এই সময়েই সৰ্বাধিক যন্ত্রণা বৃদ্ধি পায়। আমি এরূপ অনেকগুলি বোগীকে এনাকার্ডিয়াম দিয়ে আবোগ্য করেছি (এদের মধ্যে কতকগুলি দীর্ঘকালেও ছিল), এবং এখন দেখি যে ওদের সংখ্যাও নাক্স ভমিকার দ্বারা আরোগ্য প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় সমান। এস্থলে আমি দেখেছি যে, নিম্নশক্তি অপেক্ষা ২০০ শক্তিই অধিক ফলপ্রদ। (অনন্যরা যাই মনে করুক, আমার ধারণা এই যে কি এই রোগে কি অন্যত্র সকল ঔষধেরই শক্তির উপর আরোগ্যের সাফল্য নির্ভর করে।)

রোগী বিবরণী —

১৮৯৯ সালের শরৎকালে একটি ৩৫ বছর বয়স্কা বিবাহিত তিনটি সন্তানের মা একজন মহিলাকে দেখার জন্য আমাকে ডাকা হয়।

তিনি অতিশয় শীর্ণ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মুখাকৃতি ধাতুবিকৃতি হেতু হলদে হয়ে গিয়েছিল। দু’বছর আগে তার বমনের আক্রমণ হলে আমি তাকে চিকিৎসা করেছিলাম। ঐ মনে কফি চুর্ণের ন্যায় পদার্থ বমিত হয়। ঐসময়ে তিনি একমাত্র আর্সেনিক অ্যালবাম ৫০ এম পোটেন্সি দ্বারা আরোগ্যলাভ করেছিলেন। কিন্তু সেই থেকে তার অধিক হজমের গো্লযোগ থেকে যায়। পরে এই কষ্ট আস্তে আস্তে বেড়ে গিয়েছিল। তখন আর্সেনিকাম ও অন্যান্য কয়েকটি ঔষধ দিয়েও কোন উপকার হয়নি। কিছুদিন পরে পাকস্থলী খালি হলেই বেদনা (খুব তীব্র বেদনা) ও বমি দেখা দিত। কোন উপশমের জন্য তাকে রাত্রেও দু’একবার খেতে হত। বমিত পদার্থ ছিল সবসময়ই কাল বা বাদামী রংয়ের এবং কফি চুর্ণের মত দেখতে। এর আগে তার বোনের স্তনের ক্যানসারের জন্য অপারেশন করা হয়েছিল এবং তাই তিনিও তার পাকস্থলীর ক্যানসার হয়েছে ভেবে ভয়ে অত্যন্ত ব্যাকুল হয়েছিলেন। এনাকার্ডিয়াম-তাকে দ্রুত আরোগ্য করে এবং রোগটি আর ঘুরে আসেনি।

আরোগ্য ক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা, তা দেখতে হবে। কিন্তু ঔষধটির উপকার সম্বন্ধে কোন প্রশ্নই উঠে না।

২। নাক্স ভমিকা ও এনাকার্ডিয়াম উভয়ই ঔষধেই পুনঃপুনঃ নিস্ফল মলবেগ আছে, কিন্তু নাক্স ভমিকা, নিস্ফল মলত্যাগের প্রবৃত্তি অনিয়মিত ধমনক্রিয়া (irregular peristaltic action) বশতঃ জন্মে, এনাকার্ডিয়ামের নিস্ফল মলপ্ৰবৃত্তি সরলান্ত্রের ক্রিয়ার অপ্রচুরতা বা পক্ষাঘাতিক অবস্থা থেকে উৎপন্ন হয়। অন্য কথায় নাক্স ভমিকার মলবেগ আছে কিন্তু ওর সঙ্গে সরলান্ত্রের অনিয়মিত বা অতি চেষ্টা থাকে। এনাকার্ডিয়ামেরও মলবেগ আছে, কিন্তু ওতে কার্যে পরিণত করবার মত যথেষ্ট ক্রিয়া নেই। এছাড়া এনাকার্ডিয়ামের মলদ্বারে একটি পিণ্ড বা ডেলার মত গোঁজ থাকার অনুভূতি থাকে এবং উহা যেন বের হয়ে এলে ভাল হয়, এরূপ মনে হয় কিন্তু নাক্স ভমিকার এরূপ কোন অনুভূতি থাকে না।

৩। এনাকার্ডিয়াম, স্মৃতিশক্তি লোপের একটি প্রধান ঔষধ; বিশেষতঃ ভগ্নস্বাস্থ্য বৃদ্ধদের পক্ষে ইহা বিশেষ উপকারী। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই এর চরিত্রগত পাকস্থলী ও অন্ত্রের লক্ষণগুলি বর্তমান থাকতে হবে অথবা রোগীর পূর্বোক্ত মানসিক কষ্ট বা তদানুষঙ্গিক লক্ষণগুলি থাকতে হবে। তাছাড়া অনেক ঔষধেই স্মৃতিশক্তি লোপ একটি প্রধান লক্ষণস্বরূপ আছে, কিন্তু কোনটিতেই এর চেয়ে প্রবলভাবে নেই। এই ঔষধে আরো দুটি অদ্ভুত মানসিক লক্ষণ আছে।

ক) অভিশাপ ও শপথ করার দুর্নিবার প্রবৃত্তি।

খ) অবিরত প্রার্থনা করার ইচ্ছা।

“অভিশাপ দেওয়া ও শপথ করবার দুর্নিবার প্রবৃত্তি” – এই লক্ষণটি যতই অদ্ভুত বলে মনে হোক না কেন, অপর লক্ষণটি যা স্ট্র্যামোনিয়ামে দেখা যায় এবং বহুবার যা সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে, তা হল –“রোগী অবিরত প্রার্থনা করতে চায়। আর এই লক্ষণের উপর নির্ভর করে বেশ কতকগুলি আশ্চৰ্যজনক রোগীকে আরোগ্য করা গেছে। আর একটি লক্ষণ হল – রোগী মনে করে যেন তার দুটি ইচ্ছা শক্তি; একটি তাকে আদেশ করেছে, যা কিছু করতে বলছে কিন্তু আর একটি তাকে বাধা দিচ্ছে বা না করার জন্য বলছে। এরূপ লক্ষণ প্রায়ই বুদ্ধি বৈকল্যের (dementia) রোগে দেখা যায় এবং আরোগ্যকর ঔষধ নির্বাচনে সহায়ক। (আমি প্ল্যাটিনায় যে রোগী বিবরণী দিয়েছি, তা দ্রষ্টব্য)।

এনাকার্ডিয়ামে আরও দুটি অদ্ভুত লক্ষণ আছে। একটি দেহের বিভিন্ন স্থানে আংটির ন্যায় গোলাকার বেড় থাকার অনুভূতি; অন্যটি দেহের অভ্যন্তরে গোঁজ থাকার অনুভূতি। শেষোক্ত লক্ষণটি মাথা, বুক, উদর বা পেট ও মলদ্বারে দেখা যায়। আংটির মত গো্লাকার বেড় থাকার অনুভূতি মেরুদণ্ডের রোগে দেখা যেতে পারে এবং এনাকার্ডিয়ামই এই অবস্থার ঔষধ। অন্যান্য ঔষধেও এনাকার্ডিয়ামের মত গোঁজ থাকার অনুভূতির ন্যায় অনুভূতি আছে। যথা পূর্ণতাবোধ, যেন অতিশয় রক্তপূর্ণ হয়ে আছে, এরূপ অনুভূতি। (এস্কিউলাস হিপোক্যাস্টেনাম ও আকুঞ্চন বোধ (ক্যাকটাস)। রাসটাক্সের বিষাক্ততায় এনাকার্ডিয়াম উৎকৃষ্ট বিষনাশক ঔষধ বলে কথিত আছে কিন্তু আমি কখনও একে ব্যবহার করে দেখিনি।

About The Author

M.D (AMCC, Kolkata, India) M.M (B.M.E.B) D.H.M.S (B.H.B)

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!