MUREX PURPUREA মিউরেক্স পাপিউরিয়া

রক্তযুক্ত হলদেটে সাদাস্রাবের সহিত পর্যায়ক্রমে মানসিক সমস্যা।
ব্যথা ডান অভারি থেকে বাম স্তনে বা বাম অভারি থেকে ডান স্তনে বিস্তৃত হয়।
জননাঙ্গ নিচের দিকে নেমে আসতে চায়, সে জন্য পা শক্ত করে ক্রস করে চেপে রাখার চেষ্টা করে।
জরায়ু সমন্ধে সর্বদা সচেতন, জননেদ্রিয়ে সামান্য স্পর্শেই রতিক্রিয়ার প্রবল ইচ্ছা হয়।

(পার্পল ফিস)

(পার্পল ফিস এর রস শুকিয়ে বা তাজা অবস্থায় পাউডার বা তরল টিংচার প্রস্তুত ওষুধ বেশী কার্যকরী ক্লার্ক)।

উপযোগিতা- বিষণ্ণতায় ভরা এমন রোগীর ক্ষেত্রে উপযোগী। রজোনিবৃত্তি কালে বিভিন্ন রোগে (ল্যাকে, সিপি, সাল) ব্যবহার্য, মনের দারুণ, অবসন্নতা ।

পাকস্থলীতে খালিখালি বোধ (সিপিয়া)।

যৌনাঙ্গে সামান্য ছোয়ায় ভীষণ কামভাব জাগে, উত্তেজনা আসে (অত্যধিক কামোত্তেজনা বশতঃ কৃত্রিম মৈথুনে রত হয়—অরিগেনাম, জিঙ্কাম) ।

যৌনেন্দ্রিয়ে প্রবল উত্তেজনায় বুকে জোর করে চেপে ধরতে চায় (সিপিয়ার বিপরীত)।

জরায়ুতে টাটানি ব্যথা— গর্ভধারণ হয়েছে এই রকম সুস্পষ্ট ধারণা হয় (হেলোনি, লিসিন)। যোনিপথে নীচের দিকে নেমে আসা অনুভূতি যেন ভেতরের যন্ত্রগুলো সব বার হয়ে আসছে বসে পড়তে বাধ্য হয়, আড়াআড়ি ভাবে পায়ের উপর বা পা তুলে ঐ বেরিয়ে আসা চাপ দূর করতে চেষ্টা করে (একই রকম লক্ষণ তবে কোন যৌন সঙ্গমের ইচ্ছা থাকে না—সিপিয়া) ।

ঋতুস্রাব– অনিয়মিত, নির্দিষ্ট সময়ের আগে হয়। পরিমাণে বেশী ও অনেকদিন ধরে হতে থাকে—বড় বড় চাপ বাধে ।

শ্বেতপ্রদর – স্রাব কমলে মানসিক অবসাদ আসে। যখন প্রদরস্রাব বেশী হয় তখন সর্বাঙ্গীন উপশম বোধ করে ।

সম্বন্ধ – মেয়েদের কামোত্তেজনায় লিলি-টি, প্ল্যাটি-র সাথে তুলনীয়। যোনিপথে ভেতরের যন্ত্রগুলো নেমে আসা লক্ষণে সিপিয়ার সাথে তুলনীয় তবে কামোত্তেজনা সিপিয়ার থাকে না ।

শক্তি-৩০, ২০০ ।

এই ঔষধে স্ত্রী জননেন্দ্রিয় সম্বন্ধীয় লক্ষণগুলি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে পাওয়া যায় এবং রোগী চিকিৎসার সময় তা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষকরে স্নায়বিক, তেজস্বিনী, আকর্ষক স্ত্রীলোকেদের ক্ষেত্রে বিশেষ করে উপযুক্ত। রোগী দুর্বল এবং স্বাস্থ্য ভেঙ্গে পড়ে।

মন — অত্যন্ত দুঃখিত, উদ্বেগ এবং ভীতি।

পাকস্থলী – পাকস্থলীর ভিতরে খালিবোধ, সকল কিছু যেন ফাঁকা হয়ে গেছে, এই জাতীয় অনুভূতি (সিপিয়া) ক্ষুধার্ত, আহার করতে বাধ্য হয়।

স্ত্রীরোগ – জরায়ুর উপস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট অনুভূতি। জরায়ু গ্রীবার স্পন্দন। খুব সহজেই কামেচ্ছা উত্তেজিত হয়ে উঠে। বস্তি কোটরের স্পর্শকাতর অংশে, কোন একটি বস্তুর সাহায্যে যেন চাপ দেওয়া হচ্ছে এই জাতীয় অনুভূতি বসে থাকলে বৃদ্ধি। জরায়ুর ডানদিক থেকে বেদনা শুরু হয়ে, স্তনের ডানদিক অথবা বাম দিক পর্যন্ত যায়। কামোন্মত্ততা। জননেন্দ্রিয়ে সামান্য স্পর্শে তীব্র কামেচ্ছা দেখা দেয়। জরায়ুতে ক্ষতের ন্যায় বেদনা। ঋতুস্রাব অনিয়মিত, প্রচুর, বারেবারে স্রাব হয়, বুড়ো বড়ো জমাট বাঁধা। বস্তিকোটরের যন্ত্রসমূহ ঠেলে বেরিয়ে আসবে, এই জাতীয় অনুভূতি। স্থানচ্যুতি ;জরায়ুর বিবৃদ্ধি, তৎসহ বস্তিকোটরে কোঁথ ও তীক্ষ্ণ বেদনা, বেদনা স্তনগ্রন্তি পর্যন্ত প্রসারিত হয় ; শুয়ে পড়লে বৃদ্ধি। বেদনা ঋতুস্রাব ও জরায়ুর পুরাতন তৎসহ স্থানচ্যুতি। রোগীনি দুটি পা কষে আড়াআড়িভাবে রাখতে বাধ্য হয়। প্রদর স্রব সবুজাভ অথবা রক্তমিশ্রিত। পর্যায়ক্রমে মানসিক লক্ষণাবলী ও ত্রিকাস্থি স্থানে কনানি। স্তন গ্রন্থির নিদোষ অবুদ। ঋতুস্রাবের সময় স্তনের অর্বুদ যুক্ত অংশে বেদনা হয়।

প্রস্রাব যন্ত্র সমূহ — রাত্রে বারেবারে প্রস্রাব;ভ্যালেরিয়্যানের মত গন্ধ যুক্ত;অবিরাম বেগ (ক্রিয়োজোটাম।)

কমা-বাড়া—বৃদ্ধি, সামান্য স্পর্শে।

সম্বন্ধ-তুলনীয় – প্ল্যাটিনা; লিলিয়ামটিল ; সিপিয়া (এই ঔষধটিতে মিউবেক্সের মত কামউত্তেজনা থাকে না।

শক্তি – ৩য় থেকে ৩০ শক্তি।

অপর নাম মিউরেক্স ব্রানডারিস

মিউরেক্স পার্পিউরিয়া সিপিয়ার মত একপ্রকার মৎসজাতীয় প্রাণী। অ্যালকোহলে দ্রবীভূত হয় না বলে ঔষধার্থে এর বিচূর্ণ প্রস্তুত হয়।

মিউরেক্সের মূলকথা। মিউরেক্স সিপিয়ার সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠ ভাবে সদৃশ্য ও সমতুল্য ঔষধ। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হল—

১। মিউরেক্স প্রায় অদম্য ও অত্যন্ত বেশী সঙ্গমেচ্ছ থাকে কিন্তু সিপিয়ায় উহারঅভাববা সঙ্গমে বিতৃষ্ণা থাকে, বিশেষকরে জরায়ু নির্গমন সকারে(prolapsus) ইহা দেখতে পাওয়া যায়।

২। উভয় ঔষধেই পাকস্থলীতে শূণ্যতানুভব যেন সবকিছু চলে গেছে এরূপ অনুভূত থাকে। তাছাড়া যোনিপথ দিয়ে পেটের ভিতরের সমস্ত যন্ত্রগুলির ঠেলে বের হয়ে আসার অনুভূতি ও থাকে এবং রোগিনীকে এর জন্য জোড়াসন করে বা এক পায়ের হাঁটুর উপর অন্য হাঁটু রেখে চেপে বসে উহাকে দমন করতে হয়, কিন্তু মিউরেক্সে সামান্য স্পর্শে সঙ্গমেচ্ছা জাগে (অরিগেনাম, জিঙ্ক)।

এছাড়া মিউরেক্সে জরায়ু প্রদেশে এক প্রকার টাটানি ব্যথা থাকে। উহা কতকটা হেলোনিয়াসের মত, রোগী জরায়ু আছে বা জরায়ুর বিদ্যমানতার অনুভতি বলে প্রকাশ করে। সাধারণতঃ রোগিণী নাড়াচড়া করলে উহা বেশী করেঅনুভব করে এবং জরায়ুর অত্যন্ত টাটানো ও স্পর্শকাতরতা থাকে (লাইসিন)।

বিঃদ্রঃ -কামোন্মাদ অবস্থার জন্য লিলিয়াম ও প্ল্যাটিনার কথা মনে রাখতে হবে।

About The Author

M.D (AMCC, Kolkata, India) M.M (B.M.E.B) D.H.M.S (B.H.B)

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!