Recent Post

কান পাকা রোগের (Otitis Media) সফল চিকিৎসা কৌশল।

মধ্য-কর্ণের দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণকে কান পাকা রোগ (Otitis Media) বলে। আমরা অনেকেই কান পাকা রোগকে তেমন গুরুত্ব দেইনা বিধায় এটা জটিল থেকে জটিল হতে থাকে এমনকি কান পাকার ফলে কানে বাজে শব্দ হতে থাকে এবং শ্রবণ শক্তি নষ্ট হতে থাকে।

উপযুক্ত সময়ে হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা নিলে এ রোগ থেকে সম্পূর্ণ আরোগ্য লাভ করা সম্ভব । অপর দিকে যে চিকিৎসা নিলে রোগ উপশম হয় এবং চিকিৎসা বন্ধ করলে রোগ পুনরায় ফিরে আসে এমন হাতুড়ে চিকিৎসায় কান সহ সার্ব-দৈহিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশী। তাই সাময়িক উপশম মূলক চিকিৎসা থেকে নিজেকে ও সমাজকে রক্ষা করতে হবে।

কান পাকা সাধারণত দুই ধরনের:

১. টিউবোটিম্প্যানিক (Tubotympanic) ধরনের কানপাকাঃ

এ ধরনের কানপাকা রোগে মধ্য-কর্ণ এবং কানের পর্দার টানটান অংশ আক্রান্ত হয়। কানের পর্দা ফুটো হয়ে যায়, ফুটো হবার কারণে কান দিয়ে পুঁজ পড়ে। উল্লেখ্য এ ধরনের কানপাকা রোগই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।

 

২. এটিকোএন্ট্রাল (Atticoantral) ধরনের কানপাকাঃ

এ রোগে আক্রান্ত হলে মধ্য-কর্ণে কলিস্টিয়েটোমা (Cholesteatoma) নামক একটি বিশেষ বস্তু তৈরি হয়। এটি এতোটাই মারাত্মক যে হাড়ে পচন ধরিয়ে হাড়কে নষ্ট করে ফেলতে পারে। এটিকে জীবন সংহারক কানপাকা রোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

 

কি কি উপসর্গ থাকে?

১. মাঝে মাঝে কান দিয়ে পুঁজের মতো বা পানির মত ঝরে।

২. সামান্য ঠাণ্ডা-সর্দি লাগলেই পানি বা পুঁজ পড়া পুনরায় শুরু হয়ে যায়।

৩. কান ব্যথা হতে পারে।

৪. কান চুলকাতে পারে।

৫. কানে ঝিঁঝিঁ শব্দ হতে পারে।

৬. কানে কম শুনতে পারে।

 

কীভাবে এ রোগ নির্ণয় করা হয়?

  • এ রোগ নির্ণয়ে উপসর্গের পাশাপাশি কান পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। পর্যবেক্ষণ করলে সহজেই দেখা যায় কানের পর্দায় ছিদ্রটির অবস্থান ও আকার, কান দিয়ে কি পরিমাণ পুঁজ বের হচ্ছে ইত্যাদি।
  • কানপাকা রোগের বিস্তৃতি এবং কতোটা পুরনো তা বোঝার জন্যে কানের এক্সরে (X–RAY. Mastoid Towne’s View) করা যেতে পারে।
  • এছাড়া কানের শ্রবণ ক্ষমতা পরীক্ষার মাধ্যমে খুব সহজেই কানে কম শোনার মাত্রা বোঝা যায়।

 

কানপাকা রোগের জন্যে উপদেশ :

  • কানে যেন পানি না ঢোকে সেই সতর্কতার অংশ হিসেবে গোসলের সময় তেলে ভেজানো তুলো চিপে তেলটুকু ফেলে সেই তুলো কানের ছিদ্রতে গুঁজে দিয়ে গোসল করতে হবে।- অযথা কান খোঁচাখুঁচি করা যাবে না।
  • জোরে নাক ঝাড়া যাবে না।
  • ঠাণ্ডা-সর্দি যেন না লাগে সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

 

কান পাকা রোগের চিকিৎসা:

এ রোগে আক্রান্ত রোগীকে সম্পূর্ণ আরোগ্য দেয়ার লক্ষে একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে ৩ ধাপে লক্ষণ সংগ্রহ করতে হয়।

  • ১. ফিজিক্যাল লক্ষণ
  • ২. জেনারেল লক্ষণ
  • ৩. মনো লক্ষণ

 

এখন আমি কান পাকা রোগের সম্ভাব্য ফিজিক্যাল লক্ষণ নিয়ে আলোচনা করবো। এর মাধ্যমে রোগটি সম্পর্কে আমাদের স্পষ্ট ধারণা হবে।

 

অন্তত ৯ টি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে কান পাকা রোগে আক্রান্ত রোগীর ফিজিক্যাল লক্ষণ সমূহ চিরনি অনুসন্ধান করতে হয়।

 

  • ১. কানে প্রদাহ সম্পর্কিত ৮৬ টি লক্ষণ।
  • ২. কানের স্রাব সম্পর্কিত ১০৭ টি লক্ষণ।
  • ৩. কানে ব্যথা সম্পর্কিত ১৩৫২ টি লক্ষণ।
  • ৪. শ্রবণ শক্তি সম্পর্কিত ৫১৮ টি লক্ষণ।
  • ৫. কানের স্ফীতি সম্পর্কিত ৩৫ টি লক্ষণ।
  • ৬. কানে চুলকানি সম্পর্কিত ১২৬ টি লক্ষণ।
  • . কানে শব্দ সম্পর্কিত ১১০০ টি লক্ষণ।
  • . কানের পর্দা সম্পর্কিত ৬১ টি লক্ষণ।
  • ৯. অন্যান্য প্রয়োজনীয় লক্ষণ।

 

. কানে প্রদাহ সম্পর্কিত ৮৬ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – INFLAMMATION – Eustachian tube ইস্টাচিন টিউবের প্রদাহ
  • EAR – INFLAMMATION – Mastoid মাস্টইড প্রদাহ
  • EAR – INFLAMMATION – Meatus মেটাস প্রদাহ
  • EAR – INFLAMMATION – Media মিডিয়া প্রদাহ
  • EAR – INFLAMMATION – suppurative পুঁজ উৎপাদক কর্ন প্রদাহ

 

. কানের স্রাব সম্পর্কিত ১০৭ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – CATARRH – Eustachian tube ইস্টাচিন টিউবের পাতলা স্রাব
  • EAR – DISCHARGES কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – bloody রক্তময় কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – fetid পূতিগন্ধময় কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – green সবুজ বর্নের কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – offensive দুর্গন্ধ যুক্ত কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – purulent পুঁজপূর্ণ কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – yellow হলুদ বর্নের কর্ন স্রাব
  • EAR – DISCHARGES – yellowish green হলদেটে সবুজ বর্নের কর্ন স্রাব
  • EAR – SUPPURATION – Middle ear মধ্য কর্নে পুঁজ উৎপত্তি

 

. কানে ব্যথা সম্পর্কিত ১৩৫২ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – PAIN কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – blowing nose, on নাক ঝাড়লে কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – chewing, when চিবালে কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – children শিশুদের কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – cold – air; in cold ঠান্ডা বাতাসে কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – cold – head; in মাথা শীতল হলে
  • EAR – PAIN – cold – taking; from ঠান্ডা প্রয়োগের ফলে
  • EAR – PAIN – coryza; during সর্দি লাগলে কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – extending to – Throat কানের ব্যথা গলা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়
  • EAR – PAIN – Front of ear; in কানের সম্মুখ অংশে ব্যথা
  • EAR – PAIN – left বাম কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – Meatus মিটাসে ব্যথা
  • EAR – PAIN – motion, on – lower jaw নিচের চোয়াল নাড়ালে কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – night কানে ব্যথা রাতে
  • EAR – PAIN – right ডান কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – sore throat, with গলায় কাচা হাজা ভাবের সহিত কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – swallowing, on ঢুক গেল্লে কানে ব্যথা
  • EAR – PAIN – coryza; during সর্দি লাগলে কানে ব্যথা

 

. শ্রবণ শক্তি সম্পর্কিত ৫১৮ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – STOPPED sensation কান যেন বন্ধ হয়ে গেছে
  • EAR – STOPPED sensation – Eustachian tube ইস্টাচিন টিউব যেন বন্ধ হয়ে গেছে
  • HEARING – IMPAIRED শ্রবণ শক্তি কমে যাওয়া

 

. কানের স্ফীতি সম্পর্কিত ৩৫ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – SWELLING – Behind the ear – Lymphatic glands কানের পিছনের লিম্পেটিক গ্লান্ডের স্ফীতি
  • EAR – SWELLING – Below the ear – Glands কানের নিচের গ্লান্ডের স্ফীতি
  • FACE – SWELLING – Submaxillary glands সাবমেক্সিলারি গ্লান্ডের স্ফীতি

 

. কানে চুলকানি সম্পর্কিত ১২৬ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – ITCHING – About the ear কানে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – Behind the ear কানের পিছনে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – Below the ear কানের নিচে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – Eustachian tubes ইস্টাচিন টিউবে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – External ear বাহ্যিক কানে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – Front of ear; in কানের সম্মুখ অংশে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – Lobes কানের লতিতে চুলকানি
  • EAR – ITCHING – Meatus কানের মিটাসে চুলকানি
  • NOSE – CORYZA – accompanied by – Ear – itching সর্দি লাগলে কানে চুলকায়

 

. কানে শব্দ সম্পর্কিত ১১০০ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – NOISES in – roaring – coryza; during সর্দি লাগলে কানে গর্জন শব্দ
  • Hearing – NOISES, in ears – bed, driving out of বিছানায় থাকা অবস্থায় কানে মোটর গাড়ি চলার শব্দ।
  • Hearing – NOISES, in ears – bells, ringing ঘন্টা বাজার শব্দ
  • Hearing – NOISES, in ears – boiling, water, like পানি ফোঁটার মত শব্দ
  • Hearing – NOISES, in ears – blowing, nose, when নাক ঝাড়লে কানে শব্দ হয়
  • Hearing – NOISES, in ears – breathing, when শ্বাস প্রশ্বাসের সময় কানে শব্দ হয়

 

. কানের পর্দা সম্পর্কিত ৬১ টি লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – PERFORATION – Tympanum কানের পর্দায় ছিদ্র
  • EAR – TYMPANUM – congested কানের পর্দায় রক্ত সঞ্চয় বা জ্যাম
  • EAR – ULCERATION – Tympanum কানের পর্দায় ক্ষত

 

. অন্যান্য প্রয়োজনীয় লক্ষণ।

নিম্নে প্রধান প্রধান কয়েকটি মৌলিক লক্ষণ দেয়া হল।

  • EAR – AIR – sensitive to open air কানে বাতাস থাকার অনুভূতি যখন খোলা বাতাসে থাকে
  • EAR – FULLNESS, sensation of কানে পূর্নতাবোধ অনুভূতি
  • EAR – HEAT – Meatus মিটাসে উত্তাপ অনুভূতি

 

উপসংহার:

জেনারেল ও মনো লক্ষণের নির্দিষ্টতা নেই, রোগীদের মাঝে কখন কোন লক্ষণ পাওয়া যাবে তা পূর্ব থেকে বলা যায়না সুতরাং এ বিষয়ে আমাদের পূর্বাপর অধ্যয়ন করতে হবে।

 

About The Author

M.D (AMCC, Kolkata, India) M.M (B.M.E.B) D.H.M.S (B.H.B)

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *