PODOPHYLLUM পডোফাইলাম

সকাল ৭ টায় জ্বর আসে তার সহিত বাচালতা ও হাত পা ছড়িয়ে রাখে।
ভোঁর বেলা ব্যথা ছাড়া কিন্তু দুর্গন্ধ যুক্ত ডাইরিয়া তার সহিত মলদ্বারের পতন।
ডাইরিয়া, অত্যান্ত  দুর্গন্ধযুক্ত প্রচুর পরিমান মল, পিচকারীর মত বেগে বের হয়।
লিভার রিজনে ব্যথা মর্দন করলে উপশম।
শিশুরা দাঁতে চিবায় ও দাঁতে দাঁত চেপে ধরে।
রোগী মনে করে তার কোন কঠিন রোগ হয়েছে অথবা তার মৃত্যু হবে, জীবনে বিতৃষ্ণা।
ডান ওভেরীতে ব্যথা আরাম্ভ হয়ে উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

উপযোগিতা – পিত্ত নিঃসরণে গোলমাল থেকে যারা হজম ও অন্ত্রসম্বন্ধীয় গোলযোগে ভোগে বিশেষতঃ যদি পারদ অপব্যবহারের কুফল থেকে “পিত্তসংক্রান্ত রোগের আক্রমণ হয় তবে তাদের পক্ষে উপযোগী।

অনেকটা পরিমাণে ঠান্ডা জলপানের তৃষ্ণা থাকে বোয়োট।

ব্যথা বেদনা – হঠাৎ ঝাকি মারার মত। মানসিকভাবে হতাশ মনে করে সে মারা যাবে বা অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে (আর্স) পড়েছে, জীবনে হতাশা।

উদরাময়ের সাথে পাল্টাপাল্টিভাবে মাথা যন্ত্রণা (এলোজ) শুরু হয়- শীতের দিনে মাথা যন্ত্রণা, গরমকালে উদরাময় হতে থাকলে এ ওষুধ উপযোগী।

কলেরার মত পাতলা পায়খানা অথচ ব্যথাবেদনা হয় না, বাচ্চাদের উদরাময় (ফাইটো) বেদনাশূন্য উদরাময় ঐ সাথে পায়ের পাতায়, পায়ের ডিমে, উরুতে খিচে ধরে। শিশুদের দাঁত, ওঠায় কষ্টঃ-শিশু গোঙাতে থাকে, রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করে, এক মাড়ি দিয়ে অন্য মাড়ি জোরে চেপে ধরার অদম্য ইচ্ছা (ফাইটো) থাকে, মাথা গরম—বালিশের এদিকে ওদিকে মাথা চালাতে থাকে (বেল, হেলেবোর)। উদরাময়—বহুদিন যাবৎ ভুগছে, খুব ভোরে পাতলা মলত্যাগ শুরু হয়ে বিকেল অবধি (সারাদিন) হতে থাকে—সন্ধ্যায় স্বাভাবিক মলত্যাগ করে (এলোজ) ঐ সাথে শারীরিক দুর্বলতা বা তলপেটে বা রেকটামে খালি খালি বোধ হয়।

শিশুদের উদরাময় দাঁত ওঠার সময়, আহারের পরে, স্নানের সময় বা হাত, পা, মুখ ধোয়ার সময়- জলের মত মলে ভোয়ালে ভিজে যায় (এসি-বেঞ্জ), গলা আটকে আসে (Gagging)। মল—সবজে, জলের মত পাতলা, পচা দুর্গন্ধ, পরিমাণে অনেকটা (ক্যালকে-কা), পিচকারীর মত বার হয় (গ্যাম্বোজ, জ্যাট্রো, ফস), খড়িমাটির মত সাদা, জেলির মত (এলোজ), অজীর্ণ মল (চায়না, ফেরাম), হলদে ময়দার মত তলানি পড়ে, মলত্যাগের সময় বা আগে রেকটাম বার হয়ে পড়ে—এস লক্ষণে উপযোগী। জরায়ু বেরিয়ে আসে—ভারীদ্রব্য উঠিয়ে বা কোথানি হয়ে, কোষ্ঠকাঠিন্য হলে, প্রসবের পর, জরায়ু পেছনদিকে পুরোপুরি সরে না আসলে ঐ অবস্থা হলে প্রযোজ্য।

গর্ভাবস্থায় প্রথম কয়েক মাস শুধুমাত্র উপুড় হয়ে শুলে আরাম পায় (এসেটিক-এসি)।

রোগী অনবরত লিভার স্থানে হাত দিয়ে ঘসতে থাকে বা নাড়াতে থাকে।

জ্বর — সকাল ৭ টায় জ্বর বাড়ে শীত ও উত্তাপ অবস্থায় অত্যন্ত বকবক করতে থাকে—ঘাম হলে ঘুমিয়ে পড়ে। গলার ডানদিক, ডান-ডিম্বকোষ, ডান হাইপো-কনড্রিয়াম (ডান কুচকী) স্থানে (লাইকো) রোগের আক্রমণ হয়। ডানডিম্বকোষে যন্ত্রণা ও অসাড়ভাব, ঐ ব্যথা ডানদিকের উরু দিয়ে নামতে থাকে (লিলি-টি)।

যুবতী মেয়েদের ঋতুস্রাব চাপা পড়ে অসুখ (পালস্, টিউবার) হলে উপযোগী।

সম্বন্ধ — তুলনীয় এলোজ, চেলিডো, কলিনসো, লিলি-টি, মার্ক, নাক্সভ, সাল, পারদের কুফল এই ওষুধ নষ্ট করে। হজমের গোলমালে ইপি, নাক্সের পর ও লিভারের অসুখে ক্যালকে-কা, সালফের পর প্রয়োগে ভাল ফল দেয়। মা বৃদ্ধি খুব সকালে, (এলোজ, নাক্স-ভ, সাল), গরমে আবহাওয়ায়, দাঁত ওঠার সময়।

শক্তি – ৩, ৬, ৩০, ২০০ শিশুদের কলেরায় ২০০ শক্তি ভাল কাজ দেয় = বোরিক।

পিত্তাধিক্যযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই ঔষধটি বিশেষভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। এটি প্রধাণতঃ ডিওডিনাম, ক্ষুদ্রান্ত্র, যকৃৎ ও সরলান্ত্রের উপর কাজ করে। পডোফাইলামের রোগগুলি হল, পাকাশয়িক অস্ত্রের প্রদাহ, তৎসহ-শূলবেদনা ও পিত্তবমন। মল জলের মত পাতলা তৎসহ শ্লেষ্মা নির্গত হয়, বেদনাহীণ, প্রচুর। মল হুহু করে বের হয় এবং দুর্গন্ধযুক্ত। গর্ভাবস্থায় নানাপ্রকার গোলযোগসমূহ: প্রসবের পরে পেন্ডুলামের মত উদর;জরায়ুর স্থানচ্যুতি। বেদনাহীণ কলেরা মবাস। যকৃতের নিষ্ক্রিয়তা;যকৃৎ শিরার স্ফীতি তৎসহ অর্শ হবার প্রবণতা, পাকস্থলীর নিম্নাংশে বেদনা, শরীরের উপরিভাগে থাকা শিরাসমূহে পূর্ণতা, জন্ডিস।

মন — অম্লজাতীয় ফল খাবার পরে প্রলাপ ও বাচালতা। মানসিক অবসাদ।

মাথা — মাথাঘোরা, তৎসহ সামনের দিকে পড়ে যাবার প্রবণতা। মাথার বেদনা, মৃদুচাপবোধ, সকালে বৃদ্ধি তৎসহ মুখমন্ডলের উষ্ণতা ও তিতো আস্বাদ, পর্যায়ক্রমে উদরাময়। মাথা একদিক থেকে অপর দিকে নাড়াতে থাকে, তৎসহ ঘ্যানঘেনে ও বমি এবং অর্ধনিমীলিত চোখ। ঘুমের সময় শিশুর মাথায় ঘাম হয়।

মুখগহ্বর – রাত্রে দাঁতে দাঁতে কাটে; দাঁতে দাঁতে চাপ দেবার অদম্য ইচ্ছা (ফাইটোলক্কা)। কষ্টকর দন্তগম। জিহ্বা চওড়া, বৃহৎ ভিজা। পচা, দূর্গন্ধযুক্ত আস্বাদ। জিহ্বায় জ্বালাকর অনুভূতি।

পাকস্থলী – উত্তপ্ত, টক ঢেকুর; বমি-বমিভাবও বমি। অতীব ঠাণ্ডা জলের পিপাসা (ব্রায়োনিয়া)। উষ্ণ, ফেনা যুক্ত শ্লেষ্মাবমন। গলা বুক জ্বালা, শূন্য উদগার। দুগ্ধ বমন।

উদর – স্ফীত; উত্তপ্ত ও শূন্যতার অনুভূতি। দুর্বলতা অথবা অবসন্নতার অনুভূতি। কেবলমাত্র পেটের উপর চাপ দিয়ে আরামে শুতে পারে। যকৃৎস্থান বেদনাপূর্ণ, ঐস্থান ডলে দিলে উপশম। অন্ত্রের ঊধর্বগামী অংশে গুড়গুড় শব্দ ও বায়ুচলাচল করে।

সরলান্ত্র – শিশুদের কলেরা ও কলেরা মবাস। দীর্ঘদিনের উদরাময়; খুব সকালে, শিশুদের দাঁতউঠার সময়, তৎসহউত্তপ্ত, চকচকে গাল,স্নানের সময় উদরাময়;উষ্ণ আবহাওয়ায়, অম্লজাতীয় ফল খাবার পরে উদরাময়। প্রাতঃকালীন, বেদনাহীন উদরাময়, যে ক্ষেত্রে শিরার ভিতরে রক্তসঞ্চালনের অবরোধ অথবা অন্ত্রের ক্ষতের জন্য উদরাময় দেখা দেয় না। সবুজ, জলের মত, দূর্গন্ধযুক্ত, প্রচুর, হুড়হুড় করে মল নির্গমণ। মলত্যাগের সময় অথবা পূর্বে সরলান্ত্রের স্থানচ্যুতি। কোষ্ঠকাঠিণ্য; কাদার মত রঙযুক্ত, শক্ত, শুষ্ক, কষ্টকর মলত্যাগ। পর্যায়ক্রমে কোষ্ঠকাঠিণ্য ও উদরাময়। (এন্টিম ক্রুড)। আভ্যন্তরিক ও বাহ্যদেশীয় অর্শ।

স্ত্রীরোগ – জরায়ু ও ডানদিকের ডিম্বাশয়ে বেদনা তৎসহ অন্ত্রের উর্ধ্বগামী অংশের ভিতর দিয়ে প্রসারিত শব্দসমূহ। অবরুদ্ধ ঋতুস্রাব, তৎসহ বস্তি কোটরের কোঁথ। জরায়ুর স্থানচ্যুতি, বিশেষ করে প্রসবের পরে। গর্ভাবস্থায় অর্শ ও মলদ্বারের স্থানচ্যুতি। কোন কিছু উঠাবার সময় অথবা শারীরিক পরিশ্রম থেকে মলদ্বারের স্থানচ্যুতি; গর্ভাবস্থায়।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ — দুটি কাঁধের মধ্যবর্তী অংশে, ডানদিকের স্কন্ধ্যাস্থির নিম্নাংশে ও কোমর প্রদেশে বেদনা। ডানদিকের কুঁচকি স্থানে বেদনা;বেদনা তীরবেগে ঊরুস্থানের ভিতরের দিকের অংশ থেকে হাঁটু পর্যন্ত প্রসারিত হয়। বামদিকে পক্ষাঘাতের ন্যায় দুর্বলতা।

জ্বর — সকাল ৯টায় শীত শুরু হয়, তৎসহ পেটের উপরের অংশে, হাঁটু, গোড়ালি ও কজিতে বেদনা। জ্বরের সময় প্রচন্ড বাচালতা। প্রচুর ঘাম, কমাবাড়াবৃদ্ধি, খুব সকালে, উষ্ণ আবহাওয়ায়, দাঁত উঠার সময়।

সম্বন্ধ-তুলনীয়—ম্যানড্রাগোরা, এছাড়াও এটিকে ম্যানড্রেক ও বলা হয় (এক্ষেত্রে পডোফাইলামের সঙ্গে তালগোল পাকিয়ে ফেলা ঠিক হবেনা;শব্দ জোরে বলে মনে হয় এবং দৃষ্টি শক্তির প্রসারণ। অন্ত্রের নিষ্ক্রিয়তা;মল সাদা, শক্ত ও বৃহৎ। এলো; চেলিডোনিয়াম, মার্কিউরিয়াস, নাক্স, আম্ফার ও গ্রুনেল্যা।

শক্তি অরিষ্ট থেকে উচ্চ শক্তি। ২০০ থেকে ১০০০ শক্তি, অনুমান করা হয় শিশুদের কলেরায় ভালো কাজ করে।

তরুণ রোগে ছাড়া এই ঔষধটি কদাচিৎ ব্যবহৃত হয় কিন্তু ইহা একটি দীর্ঘক্রিয় এবং গভীরক্রিয় ঔষধ, ইহা শারীরবিধানের উপর গভীর ক্রিয়া প্রকাশ করে, ইহা গভীরমূল ধাতুদোষের সহিত সম্বন্ধযুক্ত।

ইহা গভীরভাবে উদরের যন্ত্রাদিকে আক্রমণ করে। ইহার লক্ষণগুলির অধিকাংশ লক্ষণই উদরের ও বস্তিগহ্বরের যন্ত্রগুলিতে এবং যকৃতে প্রকাশ পায়। উদরই রোগাক্রমণের সর্বপ্রথম স্থান বলিয়া মনে হয়। ইহা পাকস্থলীতে এবং অন্ত্রণালীতে এরূপ ক্রিয়া উৎপন্ন করে যে, স্বাস্থ্যকর শারীরক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং খাদ্যের পরিপাকক্রিয়া ও সমীকরণক্রিয়া ব্যাহত হইয়া পড়ে। পাকস্থলীতে যাহাই কিছু গ্রহণ করা হয়, তাহাই টক হইয়া যায়। পাকস্থলীর গ্রন্থিগুলি যেন পক্ষাঘাতিত হইয়া পড়ে, কোন কিছুই হজম হয় না এবং এইরূপ চলিতে চলিতে বমন ও উদরাময় দেখা দেয়। এই অবস্থায় উদরে অদ্ভুত উপসর্গসমূহ প্রকাশ পায়, উদরে যেন অনেকগুলি প্রাণী ছটফট করিতেছে এরূপ গড়গড় করে। রোগীদিগের বর্ণনায় বলা হইয়াছে যে, ঝড়ের পূর্বে পুকুরের মাছগুলি যেমন ওলট-পালট করিতে থাকে সেইরূপ অবস্থা হয়। গড়গড় করে এবং কলকল করে। ইহাতে খালধরার ন্যায় তীব্র যন্ত্রণা থাকে, রোগীকে দ্বিভাজ করিয়া ফেলে। উদর স্পর্শকাতর হয়, এত ক্ষততাযুক্ত হয় যে, তিনি চাপ সহ্য করিতে পারেন না। এই ক্ষততাবোধ পাকস্থলী অন্ত্রাদি পৰ্য্যন্ত এবং শেষে যকৃৎ পৰ্য্যন্ত বিস্তৃত হয়। সমুদয় উদরের যন্ত্রগুলি ক্ষততাযুক্ত এবং স্পর্শে অত্যনুভূতিযুক্ত হইয়া পড়ে। ইহার পর পেটে গড়গড় করা আরম্ভ হয়। জলের ন্যায় মল, মলদ্বার দিয়া হুড়হুড় করিয়া নির্গমন, রোগী ভাবিয়া আশ্চর্য্য হয় এত মল কোথা হইতে আসিতেছে কিন্তু অল্পক্ষণ পরে আবার ঐরূপ অবস্থাই উপস্থিত হয়। প্রচুর, অত্যধিক এবং পুনঃপুনঃ মলনিঃসরণ। ক্ষততা, খালধরা এবং গড়গড় করা মলত্যাগের পূর্বেই বর্তমান থাকে কিন্তু সময়ে সময়ে মলত্যাগকালেও ঐরূপ চলিতে থাকে। সাধারণতঃ মলত্যাগে রোগীর উপশম হয়। যথেষ্ট অধঃবায়ু ও গড়গড় করা থাকে কিন্তু তাহা ‘এলোর ন্যায়: খুব স্পষ্ট নহে। শূলব্যথা কখন কখন মলত্যাগ ব্যতীতই উপস্থিত হয় এবং মলত্যাগ ব্যতীতই চলিয়া যায়। যন্ত্রণাহীন মল, এই সম্বন্ধে ‘চায়না’র সহিত তুলনা করিবে, উহাতে রাত্রিকালে ও আহারের পর মলত্যাগ হয়। মল পচাগন্ধযুক্ত বা পচাগন্ধহীন এবং কালির ন্যায় বর্ণবিশিষ্ট। মল দুর্গন্ধবিশিষ্ট না হইলে পডোফাইলাম কচিৎ নির্দিষ্ট হয়। মলত্যাগের কিছুক্ষণ পরে উদরে আবার গড়গড় করে এবং মলত্যাগে উহার উপশম হয়। পুনঃপুনঃ এইরূপ হইতে থাকে। মনে হয় । যেন রক্তাধারগুলির আধেয় খালি হইয়া উদয়গহ্বরে প্রবেশ করিবে এবং তারপর বাহির হইয়া আসিবে। ইহা-কলেরা অথবা ঔদরাময়িক কলেরার অসদৃশ নহে এবং বাঁধা নিয়মের চিকিৎসায় যে যে রোগের জন্য ইহার ব্যবহার হইত, ঐ দুইটিই তাহাদের সাধারণ সংজ্ঞা। ঔদরাময়িক কলেরা রাত্রের শেষভাগে বিশেষতঃ রাত্রি ৩টা, ৪টা বা ৫টার দিকে উপস্থিত হইলে, উহা পডোফাইলাম সদৃশ হইতে পারে। অন্ত্রের মধ্যে আন্দোলন, তৎসহ গড়গড় শব্দ, যন্ত্রণা এবং ক্ষততা; এবং অবসন্নতা এত স্পষ্ট যে মনে হয়, দুই-একদিনের মধ্যে উপশম দেওয়া না গেলে, রোগী মরিয়া যাইবে । চাউল-ধোয়া জলের ন্যায় মল, কিছুক্ষণ থাকিলে জেলির মত হইয়া যায়। এইরূপ গড়গড় হুড়হুড় শব্দের সহিত, তাহার একপ্রকার অবর্ণনীয় অনুভূতি থাকে, একপ্রকার শূন্যতাবোধ, একপ্রকার ভয়ঙ্করভাবের পীড়িতবোধ, উহাকে উপবাস করিলে যেরূপ হয় সেইরূপ শূন্যতাবোধ বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। কিন্তু তথাপি উহাতে খাদ্যে অপ্রবৃত্তি থাকে। একপ্রকার কষ্টকর, ক্ষুধার্ত, ও শূন্যতাবোধবিশিষ্ট দুর্বলতা, মনে হয় যেন সমুদয় অন্ত্রটি ঠেলিয়া বাহির হইয়া পড়িবে । রোগীরা যে এইরূপ মনে করে তাহাতে আশ্চর্য্য হইবার কিছু নাই কারণ এই ঔষধটি আশ্চৰ্য্যকর শিথিলতা উৎপাদন করে। কেহ কেহ ইহা নিম্নাভিমুখে ঠেলামারা বেদনা বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন । জরায়ুর বন্ধনীগুলি শিথিলিত হয় এবং জরায়ু বহির্নির্গত হয়। সরলান্ত্র—এক ইঞ্চির বেশী নির্গত হইয়া পড়ে। যেন সকল যন্ত্রই ঠেলিয়া বাহির হইয়া পড়িবে। এইরূপ ভাবের নিম্নাভিমুখী ঠেলবোধ একটি সাধারণ লক্ষণ। উহা যকৃতে আরম্ভ হয় এবং মনে হয় যেন সকল যন্ত্রই বাহির হইয়া পড়িতেছে। দুর্বলতার সহিত সংযুক্ত ক্ষততাবোধ।

ডিম্বকোষপ্রদেশে নিম্নাভিমুখী আকর্ষণ, ডিম্বকোষ রক্তসঞ্চয়বিশিষ্ট হইয়া পড়ে। জরায়ু অত্যন্ত ক্ষততাযুক্ত ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়, স্পর্শে ক্ষততাযুক্ত থাকে, সেইজন্য হালকা পোষাকেও যন্ত্রণার বৃদ্ধি হয়। উদরাময়ে, ও বমনে উদরের অনুভূতি-প্রবণতা, ঔদরাময়িক কলেরা এবং স্ত্রীলোকদিগের ঋতুস্রাবকালেও ঐ অবস্থা। ঋতুকালে যদি প্রচুর উদরাময় এবং জরায়ুতে অত্যন্ত ক্ষততাবোধ থাকে, তাহা হইলে প্রযোজ্য। ডিম্বকোষে, একটিতে বা উভয়টিতে অত্যন্ত যন্ত্রণা, উরুদেশ দিয়া নিম্নদিকে, ঊরুর সম্মুখভাগ দিয়া নিম্নদিকে বিস্তৃত হয়। ডিম্বকোষদ্বয়ে, বিশেষতঃ ডানটিতে যন্ত্রণা, ঋতুকালে ডিম্বকোষে যন্ত্রণা, ঋতুকালে অন্ত্রাদিতে কামড়ানির ন্যায় যন্ত্রণা। ঋতুকালের পূর্বে ও সময়ে উদরে অত্যন্ত ক্ষততা (এপিস, সিমিসিফিউগা’, ‘ভেম্পা, ‘ল্যাকেসিস’); কিন্তু এই সময়ে উদরাময় থাকা খুব বেশী সম্ভবপর নহে, এবং যদি থাকে, তাহা হইলেও তাহা খুব বেশী নহে। পৰ্য্যায়শীলতা এই ঔষধটির একটি লক্ষণ। যদি কোন পডোফাইলাম রোগীর ঠান্ডা লাগে, কোনরূপ মানসিক উত্তেজনা আসে, সে নিজেকে অত্যন্ত পরিশ্রম করায়, সিদ্ধকরা খাদ্য, বাঁধাকপি, ফল খায় এবং গুরুপাক খাদ্যে পাকস্থলী অত্যন্ত বোঝাই করে, তাহা হইলে তাহার উদরাময় হয়, এবং তারপর তাহার কয়েক সপ্তাহস্থায়ী কোষ্ঠবদ্ধতা হয়, ডেলাডেলা মল ছাড়া অন্য কোনরূপ মলত্যাগ হয় না, কষ্টদায়ক স্বল্প মলত্যাগ হয়, কিন্তু আবার যেই সে পাকস্থলীকে বিশৃঙ্খল করে, তাহার উদরাময় উপস্থিত হয়। এইরূপ পৰ্য্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতার অবস্থাই, উদরাময় অপেক্ষা এবং বেশী পডোফাইলাম-জ্ঞাপক অবস্থা, এবং এইরূপ পুরাতন অবস্থা অন্য অনেক ঔষধেও দেখা যায়। এই উদরাময় নির্দিষ্টকালস্থায়ী এবং কোষ্ঠবদ্ধতার সহিত পৰ্য্যায়ক্রমে উপস্থিত হয়।

আর একটি পর্যায়শীল অবস্থা ইহার শিরঃপীড়া। পুরাতন শিরঃপীড়া, নির্দিষ্টকাল ব্যবধানে শিরঃপীড়া, সবমন শিরঃপীড়া, উহা রক্তসঞ্চয় প্রকৃতির মনে হয় যেন সমস্ত রক্তই মাথায় উঠে, মাথা ফাটিয়া যাওয়ার ন্যায় বোধ হয়, যন্ত্রণা মাথার পশ্চাদ্ভাগেই সর্বাপেক্ষা বেশী হয়, বিদীর্ণকর শিরঃপীড়া এবং তারপর উদরাময় উপস্থিত হয় এবং তাহাতে শিরঃপীড়ায় উপশম হয়। সময়ে সময়ে যখন উদরাময় খুব হঠাৎ বন্ধ হইয়া যায়, তখন তাহার পরিণাম হয় শিরঃপীড়া। কোন কোন উদরাময়ে, উচ্চক্রমে পডোফাইলাম দেওয়ার পর, উদরাময় থামিয়া গিয়া শিরঃপীড়া উপস্থিত হয়। ইহা একটি সাধারণ লক্ষণ। ইহার অর্থ এই যে, ঔষধটি হঠাৎ ক্রিয়া করিয়াছে এবং শিরঃপীড়াও শীঘ্রই চলিয়া যাইবে।

যকৃতের উপদ্রবের সহিত পৰ্য্যায়ক্রমে শিরঃপীড়া। রোগী কোন পার্শ্বে বা উপুড় হইয়া শুইয়া থাকে। দ্বাদশাঙ্গুলান্ত্র স্থানে বিদীর্ণকর যন্ত্রণা। তোমাদের মনে হইবে উহা পিত্তপাথুরীশূল নহে ত! নির্দিষ্টকাল ব্যবধানে তীব্র শিরঃপীড়া, উহার সহিত পৰ্য্যায়ক্রমে উদরাময়, এবং কোষ্ঠবদ্ধতা, সে যকৃতের উপর পিছনদিক হইতে সম্মুখদিকে টোকা দিতে থাকে এবং ঐভাবে উপশম পায়। কিন্তু যকৃৎ এত ক্ষততাযুক্ত থাকে যে, সে কচিৎ চাপ সহ্য করিতে পারে। যকৃৎ স্পর্শকাতর থাকে। যকৃৎস্থানে যন্ত্রণা, পৃষ্ঠের ভিতর দিয়া যন্ত্রণা, মৃদু কনকনানির ন্যায় যন্ত্রণা, অবশেষে ন্যাবা, সে অত্যন্ত হলদে হইয়া পড়ে । ন্যাবারোগের সহিত আহারের পর দুই তিন ঘন্টা যাবৎ অস্বচ্ছন্দতা ও কষ্ট, অত্যন্ত বমিবমি ভাব, খাদ্যে অপ্রবৃত্তি, অন্ত্রাদিতে শূন্যতা এবং সবকিছু চলিয়া গিয়াছে এরূপ অনুভূতি। বমন-সবুজাভ, প্রচুর, জলের ন্যায়, সবকিছুই বমি করে, দুগ্ধ বমি করে, (ক্যাল্ক’, ‘ইথুজা’—শেষোক্তটি জল ধারণ করিতে পারে)। বমনের পর ক্ষুধা, মারাত্মক অবসন্নকর বমনেচ্ছা ও দুর্বলতা। বমনকালে সরলান্ত্র ও মলদ্বার নির্গমন (মিউ এসি’)। সাধারণতঃ বাদশাঙ্গুলান্ত্রের প্রতিশ্যায় বলা হয় এরূপ একটি অবস্থা, একপ্রকার পুরাতন রোগ, থাকিয়া থাকিয়া পডোফাইলাম-জ্ঞাপক উদরাময় উপস্থিত হয়।

মানসিক লক্ষণগুলি কষ্টদায়ক। জড়ভাবযুক্ত যকৃতের সহিত প্রায়ই জড়ভাবযুক্ত ও পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থা বর্তমান থাকে। তৎসহ আরও ধীর ও মন্থর নাড়ী এবং হৃদস্পন্দন থাকে। চিত্তের অত্যন্ত অবসন্নতা, বিষাদ, দুঃখিততা, বিমর্ষতা, সবকিছুই যেন ভুল পথে চলে, মেঘগুলি অত্যন্ত কৃষ্ণবর্ণ বোধ হয়, যেন একটুও আলো থাকে না, সে মনে করে যেন সে মরিয়া যাইতে পারে অথবা সে পীড়িত হইতে চলিয়াছে, যেন তাহার রোগ পুরাতন রোগের আকার ধারণ করিয়াছে, যেন তাহার পুরাতন হৃৎরোগ হইয়াছে, যেন সে পাপ করিয়া তাহার করুণা পাওয়ার দিনটি হারাইয়া ফেলিয়াছে এবং এইরূপ অন্যান্য খেয়ালসকল। মন সহজেই ক্লান্ত হইয়া পড়ে, চঞ্চলভাব, অস্থিরতা, স্থির হইয়া বসিতে পারে না, সমস্ত দেহই অস্থিরভাবাপন্ন থাকে।

এইরূপ মানসিক অবস্থার সহিত ন্যাবারোগ, সবকিছু শূন্য হইয়া গিয়াছে এরূপ অনুভূতি, খাদ্যে অপ্রবৃত্তি, এমনকি খাদ্যের চিন্তায় ও ঘ্রাণে অপ্রবৃত্তি, যকৃৎপ্রদেশে পূর্ণতাবোধ ও স্ফীতি বর্তমান থাকে। জিহ্বা পুরু লালায় আবৃত থাকে, আঠার ন্যায় হলদে লেপ, যেন জিহ্বার উপর সরিষার গুঁড়া ছড়াইয়া দিয়াছে এরূপ আকৃতি, জিহ্বার উপর দাঁতের ছাপ, দুর্গন্ধ নিঃশ্বাস। এরূপ অবস্থায় প্রাচীনেরা ক্যালোমেল’ দিতেন।

পিত্তপাথুরীশূল, যকৃতের বৃদ্ধি, পাকাশয়ের দুর্বলতা, পরিপাক করিতে পারে না, দ্বাদশাঙ্গুলান্ত্রের সর্দি, পাকাশয়ের সর্দিজ অবস্থায় প্রচুর উদরাময়। তুমি যদি একটি মলত্যাগ পাত্রে পডোফাইলামের মল দেখ, তাহা হইলে প্রচুর জল দেখিবে, এবং তাহার তলায় আটা গোলার মত একপ্রকার তলানি দেখিবে, মনে হইবে যেন উহার মধ্যে আটা গোলাইয়া দিয়াছিল যদি তুমি উহা প্রথম প্রথম অবস্থায় দেখ, তাহা হইলে উহা হলদে, ঘোলাজলের মত অথবা হরিদ্রাভ সবুজ, প্রচুর, দুর্গন্ধ, মড়ার ন্যায় গন্ধবিশিষ্ট মনে হইবে, গন্ধে সমস্ত বাড়ীটি ভরিয়া বাইবে; মল একটি পিপার ফুটা দিয়া জলপড়ার ন্যায় বেগে নির্গত হইবে, গড়গড় করিবে এবং উহার সহিত যথেষ্ট অধঃবায়ু থাকিবে। ঐরূপ মলের সহিত সচরাচর সরলান্ত্র নির্গমন থাকে,  বেগে জলবৎ মল নির্গমন এবং সরলান্ত্র নির্গমন; নরম মল যথেষ্ট বেগ দিয়া নির্গত করিতে হয় এবং তৎসহ সরলান্ত্র নির্গমন।

জরায়ু নির্গমন;—উহার প্রধান ঔষধ ‘মিউরেক্স’, ‘সিপিয়া’, নেট্রাম মিউর’ । সিপিয়া । বসিলে বা শুইলে ভাল থাকে, চলিলে খারাপ হয়। সঙ্গমে অপ্রবৃত্তি, উত্তাপের ঝলকা,  কোষ্ঠবদ্ধতা, তাহার সহিত সরলান্ত্রের একটি ডেলা থাকার অনুভূতি, মলত্যাগে উপশম। মিউরেক্স’ নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি থাকে—একমাত্র যোনি-ওষ্ঠ চাপিয়া ধরিলেই উপশম, শুইলে উপশম হয় না, তখন তাহার পৃষ্ঠ ও নিতম্বদেশে যন্ত্রণা হয়, সে হাঁটিয়া বেড়াইতে বাধ্য হয়, কিন্তু তাহাতেও বৃদ্ধি হয়। প্রবল সঙ্গমেচ্ছা। দক্ষিণ ডিম্বকোষে যন্ত্রণা, উহা সমুদয় শরীর অতিক্রম করিয়া বামস্তনে প্রসারিত হয়। যন্ত্রণা জরায়ু হইতে তীরের ন্যায় উপরদিকে উঠিতে থাকে।

“পিত্ত এই কথাটি পডোফাইলাম সম্বন্ধে মূল্যবান লক্ষণ। তোমাকে এই পিত্তের বর্ণের সহিত বমন ও মল যোগ করিতে হইবে । রোগী বলিবে যে, সে পিত্তাধিক্যযুক্ত, তাহার যকৃৎ বিশৃঙ্খল, তাহার মখে তিক্তস্বাদ, তাহাঁর থুথু পিত্তময় এবং হলদেবর্ণ, উদরাময়ে পিত্ত একপ্রকার সবুজ পদার্থরূপে নির্গত হয়।

শিশুদের মলদ্বার নির্গমনবিশিষ্ট প্রচুর উদরাময়, আর কোন লক্ষণ থাকুক আর না থাকুক, পডোফাইলাম দ্বারা আরোগ্য হইবে।

শৈশবকালের একপ্রকার লক্ষণ নিলিখিতরূপ —শিশুর উদরাময় না থাকিতে পারে, এমনকি কোষ্ঠবদ্ধতা থাকিতে পারে কিন্তু সে যখন শয্যায় শুইয়া থাকিবে তখন নিদ্রার মধ্যে মাথা নাড়িতে থাকিবে। বেল’ ও ‘এপিসে’ও মাথা নাড়ে। এপিস’ চিৎ হইয়া একপার্শ্বে মাথা

বাঁকাইয়া শোয়। পডো চিবাইতে থাকার ন্যায় চোয়াল নাড়ায়, সময়ে সময়ে দুধ চুষিয়া খাওয়ার ন্যায় শব্দ করে, যাহাদের একটু বয়স হইয়াছে ও দাঁত বাহির হইয়াছে, তাহারা দাঁত কড়মড় করে, এপাশ-ওপাশে মাথা চালে, এবং যদি তুমি চক্ষুর পাতা উঠাও, তাহা হইলে টেরাদৃষ্টি দেখিতে পাইবে। পরীক্ষাকারীরা অনুভব করিয়াছিলেন যেন চক্ষু ভিতরদিকে আকৃষ্ট হইতেছে। ইহা হঠাৎ অবরুদ্ধ উদরাময়ের পরবর্তী রক্তসঞ্চয়ে টেরাদৃষ্টি উপস্থিত হইলে তাহা আরোগ্য করিয়াছে।

শিশুর মলের কোন বর্ণ থাকাই স্বাভাবিক কিন্তু তৎপরিবর্তে যদি উহার খড়ির ন্যায় মলত্যাগ হয় (ক্যাল্ক কার্ব’) তাহা হইলে প্রযোজ্য। পূর্ণবয়স্কদের পিত্তহীন, সাদা মল।

শরীরে দুর্গন্ধ থাকে, দুর্গন্ধ ঘর্ম। সিপিয়া’, ‘মার্ক, এলো, সালফ, মিউরেক্স ও নাক্সের সহিত তুলনা কর।

অপর নাম – মে-আপেল (May-Apple)

ওয়াইলড ম্যাকে (Wild Mandratke)

ডাকস ফুট (Duck’s Foot)

বাৰ্বেরীডেসী জাতীয় এই বৃক্ষ সম্ভবতঃ বাইবেলে উল্লেখিত ম্যাক বৃক্ষ। ইহা আমেরিকায় জন্মে। এর সরস মূল ঔষধার্থে ব্যবহৃত হয়। মূল থেকে অরিষ্ট ও এর উপক্ষার পডোফাইলিন থেকে বিচুর্ণ প্রস্তুত হয়।

পডোফাইলামের-মূলকথা

১। উদরাময়, প্রভৃত দুর্গন্ধ মল; মল এত বেশী হয় যে উহাতে রোগীকে শুকিয়ে দেয়, প্রাতে ও দন্তোদগমকালে বৃদ্ধি।

২। বারবার ওয়াক তোলে কিন্তু বমি হয় না; এক পাশ থেকে অন্যপাশে মাথা চালে, এবং আধ বোজা চোখে (অৰ্দ্ধমুদিত নয়নে) কোঁকানি বা কাতরতা।

৩। জ্বরের ভোগকালে বিশেষতঃ হলুদ বর্ণের চর্ম সহকারে, অতিশয় বাচালতা (loquacity)।

৪। জরায়ু ও মলদ্বারের বহিনিৰ্গন (prolapsus)।

পডোফাইলাম – একটি আলোচনা

আমাদের মেটেরিয়া মেডিকাতে অনেকগুলি শক্তিশালী বিরেচক ঔষধ আছে। পডোফাইলাম তাদের একটি। আমাদের আরোগ্য নীতিতে ভাষা ভাষা জ্ঞানের দ্বারা একজন নবীন চিকিৎসক মনে করতে পারেন যে পডোফাইলামে উদরাময় জন্মায় বলে উদরাময় চিকিৎসায় পডোফাইলাম প্রয়োগ করলেই ঐক্ষেত্রে আরোগ্য জন্মাবে। কিন্তু এরূপ ব্যবস্থায় প্রায়ই বিফলতা জন্মে। কারণ প্রত্যেক বিরেচক ঔষধেই ভিন্ন ভিন্ন রকমের উদরাময়ের উৎপত্তি হয়। আর সেই বিশেষ বিশেষ উদরাময়ই সেই সেই ঔষধ ছাড়া অন্য কোন ঔষধে সারে না। পডোফাইলামেও এক প্রকার বিশেষ ধরনের উদরাময় আছে, যা পডোফাইলাম ছাড়া অন্য কোন ঔষধ দ্বারা সারে না। পডোফাইলামের প্রধান লক্ষণগুলি হল —

ক) মলের প্রভূততা; খ) মলের দুর্গন্ধ; গ) প্রাতে, গরমকালে ও দন্তোদগম কালে বৃদ্ধি।

এই তিনটি পডোফাইলামের মলের বিশেষ লক্ষণ।

এছাড়া আনুষঙ্গিক লক্ষণগুলিরও বিশেষত্ব থাকে।

এতে প্রায়ই সরলান্ত্রের বিচ্যুতি বর্তমান থাকে, আধ বোজা চোখে নিদ্রা, মাথা এক পাশ থেকে অন্য পাশ চালে, গোঁঙায়, বারবার ওয়াক তোলে কিন্তু বমি হয় না। এই গুলি পডোফাইলামের আনুষঙ্গিক লক্ষণ। এই সব লক্ষণানুসারেও এই ঔষধ ব্যবহৃত হলে এর দ্বারা অতিশয় সন্তোষজনক ফল হতেও দেখা যা।

এর মল এত বেশী হয় যে প্রতিবার মলত্যাগের পর মনে হয় যেন ইহা রোগীকে শুকিয়ে দিল। মল হলদে বর্ণের বা ঈষৎসবুজ স্বর্ণের জলের মত; জলের মত হলে সব সময়ই ইহা প্ৰক পরিমাণে নির্গত হয়। আবার মল মাছের মত নরম ও প্রভূতও হতে পারে (গ্যাম্বোজিয়া), আবার ইহা আমযুক্ত ও স্বল্পও হতে পারে।  কিন্তু পডোফাইলামের মলে সৰ্ব্বদাই অতিশয় দুর্গন্ধ থাকে।

মন্তব্য- আমি এই ঔষধে সব অবস্থার রোগীকেই আবোগ্য কবেছি। শিশু কলেরার প্রাথমিক অবস্থায় বিশেষ করে যথেষ্ট বৃদ্ধি প্রাপ্ত অবস্থায় এমনকি দৃশ্যতঃ আশাশূন্য অবস্থায় ১০০০ শক্তি (বিটি) আমাকে সর্বোৎকৃষ্ট ফল দিয়েছে।

* উদরাময় যা কোষ্ঠবদ্ধ মুক্ত লিভারের পীড়ার ঔষধেই তালিকায় এর স্থান ঋাকা সত্ত্বেও আমি লিভারের রোগে একে খুব বেশী উপকার হতে দেখিনি। তবে যাইহোক আমি অনায়াসে বুঝতে পারি যে ইহা কিভাবে ফলপ্রদ হতে পারে।

কোষ্ঠবদ্ধতাযুক্ত লিভারের রোগের আগে উদরাময় থাকলে ইহা আরোগ্য করতে পারে; যেন ওপিয়াম পূৰ্ব্ববর্তী সুপ্তির পরবর্তী নিদ্রাশুন্যতা এবং কফিয়া পৰ্ব্ববর্জ্য উত্তেজনার পরবর্তী নিদ্রালুতা আরোগ্য করে।

প্রত্যেক ঔষধের দুটি করে ক্রিয়া আছে যাকে মুখ্য বা গৌনক্রিয়া নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু সৰ্ব্বাপেক্ষা নিশ্চিত ও স্থায়ী ফল পেতে হলে রোগীর যে অবস্থা আরোগ্য করতে হবে তা ঔষধের মূখ্য ক্রিয়ার উৎপন্ন অবস্থার মত হতে হবে। কারুণ আমি অন্যত্র বলেছি যে যাকে ঔষধের গৌন ক্রিয়া বলা হয় তা আসলে ঔষধের স্বাভাবিক ক্রিয়া নয়, ঔষধের বিপক্ষে শরীর যন্ত্রের জাগ্রত শক্তির চেষ্টা মাত্র হলে এরূপ স্থলে পৰ্য্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতার অর্থ, বোগও তার বিপক্ষে সুস্থতা স্থাপনের জন্য জীবনীশক্তির যুদ্ধ। সুতরাং এক্ষেত্রে একান্ত ভাবে । জানা দরকার যে কোষ্ঠবদ্ধতা বা উদরাময় কোনটি প্রকৃত বোগ যার বিরুদ্ধে সুস্থতাস্থাপনের জন্য জীবনীশক্তির চেষ্টা পৰ্য্যায়ক্রমে উদরাময় ও কোষ্ঠবদ্ধতায় প্রকাশিত হয়। তবে এসব সত্ত্বেও এই জ্ঞান থাকার একান্তভাবে দরকার নেই, কারণ উভয় ক্ষেত্রেই ঔষধ নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট আনুষঙ্গিক লক্ষণ বর্তমান থাকে।

বস্তুতঃ ঔষধ নির্বাচন করতে হয় – রোগীর স্বতন্ত্র ধরনের ও চরিত্রগত লক্ষণ দ্বারা অথবা লক্ষণ সমষ্টি দ্বারা। প্রকৃত হোমিওপ্যাথ ছাড়া আর কেউ একথার মূল্যায়ন করতে পারেন না। এই সকল ক্ষেত্রে নিদানগত চিকিৎসা ব্যবস্থা (pathological) যা বলা হয় তা প্রায়ই ব্যর্থ হয়। কারণ নির্বাচনের প্রয়োজনীয় লক্ষণগুলি সম্পূর্ণভাবে সেইসব লক্ষণের বাইরে থাকতে পারে, যার দ্বারা রোগের প্যাথলজি বা নিদান তৈরী হয়।

২। দস্তোদগমকালে মাঢ়ীতে মাঢ়ীতে ধর্ষণের প্রবৃত্তি অর্থাৎ মাঢ়ী দুটিকে একত্র করে অতিশয় চাপ দেওয়ার প্রবৃত্তি পডোফাইলামেই লক্ষণ। এই লক্ষণটির প্রাধান্য থাকলে পডোফাইলাম অথবা ফাইটোলাক্কা এই দুটি ঔষধ্যে একটি উপযোগী।

উভয়েই আবার শিশু কলেবার প্রধান ঔষধ। * পডোফালামে ইপিকাকের ন্যায় এত বেশী বমি বমি ভাব (nausea) থাকে না কিছু বমি করার জন্য ওয়াক তোলা (gagging) থার্কে, যদিও বমি হয় না।

* সিকেলী করেও এই লক্ষণটি পরিলক্ষিত হয়। পেটে, বিশেষতঃ স্থুলন্ত্রের উৰ্দ্ধগামী অংশে (ascending colon) গুড়গুড় বা হুড়হুড় শব্দ, পেটের পুরাতন রোগে পডোফাইলাম প্রয়োগের একটি প্রবল লক্ষণ।

২। অতিরিক্ত কুন্থন বা কোথ দেওয়ায়, অতিরিক্ত দ্বার উল্মেলনে অথবা প্রসবের পর জরায়ুর বহিনির্গমনেও (prolapsus uteri) ইহা বিশেষ ভাবে উপযোগী। এক্ষেত্রে রাসটাক্স ও নাক্স ভমিকার সঙ্গে পডোকালামের তুলনা করতে হয়।

৩। ডিম্বাশয়ের (overy) সঙ্গেও পডোফাইলামে প্রবল সম্বন্ধ আছে বলে মনে হয়। “ডান দিকের ডিম্বাশয়ের বেদনা, ও সেই দিকে ঊরু পর্যন্ত উহার প্রধাবন” (লিলিয়াম টিগ) – এই লক্ষণে কতকগুলি রোগিণী এই ঔষধে অতি আশ্চৰ্য্যরূপে আরোগ্য লাভ করেছে। কখন কখন এর সঙ্গে অবশতাও (numbness) থাকে। এই লক্ষণের উপস্থিতিতে ডিম্বাশয়ের অৰ্ব্বুদ (ovarian tumour) পৰ্যন্ত এই ঔষধে সেরে গেছে।

৪। সবিরাম জ্বরেও পডোফাইলাম ব্যবহৃত হয়। আমি এক সময়ে পডোফাইলাম দ্বারা একটি সবিরাম জ্বরের দুরারোগ্য রোগীকে সুন্দরভাবে আরোগ্য করেছিলাম। তার অত্যন্ত শীত হত, তারপর তার বাচালতা সহ প্রবল জ্বর প্রকাশ পেত। তার প্রবল জণ্ডিস রোগও ছিল। জ্বর চলে গেলে রোগী ঘুমিয়ে পড়ত এবং জেগে উঠলে প্রলাপের সময় কি বলেছিল তা মনে করতে পারত না।

এই ঔষধের ক্রিয়া ক্ষেত্র খুব বিস্তৃত বলে মনে হয় না কিন্তু এর অধিকারের মধ্যে এর ক্রিয়া অতিশয় ক্ষিপ্র ও আশ্চৰ্য্য ফলপ্রদ।

About The Author

M.D (AMCC, Kolkata, India) M.M (B.M.E.B) D.H.M.S (B.H.B)

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!