NAJA TRIPUDIANS ন্যাজা ট্টাইপিউডিয়্যান্স

হ্রদপিন্ড সম্বন্ধে উৎকণ্ঠা ও বিষন্নভাব, গলার ভিতর ও বুকে সঙ্কোচন অনুভূতি।
হ্রদপিন্ডে দুর্বলতা অনুভূতি ও ব্যথা, সে ব্যথা ঘাড়, বাম কাঁধ ও দাঁত প্রর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং রোগি অত্যান্ত উৎকন্ঠা ও মৃত্যুভয় প্রকাশ করে, বাম ডিম্বকোষ হতে হ্রদপিন্ডে ব্যথা, মনে হয় যেন ডিম্বকোষ ও হ্রদপিন্ডে টানা দেয়া আছে।
নাড়ী ধীরে ধীরে ও অনীয়মিত ভাবে চলে।
শরীরের উপর দিকে রক্ত উঠে, শ্বাসকষ্ট হয়, বাম পাশে শুতে পারে না।
বাম পাশে শুলে সকল রোগই বৃদ্ধি হয়।
গলার ভিতর কিছু একটা ফুলে উঠছে বা কন্ঠ রোধ হয়ে যাচ্ছে, সেজন্য রোগী বারে বারে গলার উপর হাত দেয়।

(গোখরো সাপের বিষ)

উপযোগিতা— আত্মহত্যা করার জন্য উন্মত্ত- অবিরত কালপনিক কষ্ট সম্বন্ধে চিন্তা করে (অরাম)। হৃৎপিন্ড বড় হয় অথচ কোন কষ্টকর লক্ষণ থাকে না। তরুণ প্রদাহ হয়ে হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হলে ও হৃৎপিন্ডের ভালভে কোন ক্ষয় হয়ে কষ্ট হলে এ ওষুধ সারিয়ে দেয়। বাগ্রস্ত হৃৎপিন্ডের প্রদাহে বা পুরান যান্ত্রিক রোগবশতঃ আক্ষেপজনক। কাশি (স্পঞ্জিয়া) যা অত্যন্ত বিরক্তিকর এমন কাশি হলে উপযোগী ।

ডিপথেরিয়া রোগের পর হৃৎপিন্ডের আসন্ন পক্ষাঘাত অবস্থায় উপযোগী ।

নাড়ী শক্তির দিক হতে অনিয়মিত কিন্তু একই তালে সমানভাবে চলতে থাকে। কথা বলতে পারে না বিশেষতঃ কোন বক্ততা দেওয়ার পর গলা বসে যায়, স্নায়বিক, পুরান বুক ধড়ফড়ানি রোগ বুকে যন্ত্রণা গাড়ীঘোড়া চড়লে বা ব্যথা যেদিকে সেদিকে শুলে বাড়ে।

হৃৎপিন্ড স্থানে তীব্র ছুঁচ ফোটানো মত যন্ত্রণা হলেও উপযোগী ।

সম্বন্ধ – আর্স, ক্যাকটাস, ক্রোটেলাস, ল্যাকে, মাইগেল ও স্পাইজের সাথে তুলনীয় ।

শক্তি-১২, ৩০ ।

ন্যাজা আদর্শ বাল্বার প্যারালিসিস উৎপন্ন করে (এল. জে.বয়েড)। ঔষধটি রক্তস্রাব উৎপন্ন করে না, কিন্তু শোথ উৎপন্ন করে, এই কারনে এই সরীসৃপের দ্বারা দংশিত হবার পরে জীবের দেহে বাহ্যিক কোন আঘাতের কোন চিহ্ন প্রায়ই দেখা যায় না। কেবলমাত্র যে অংশে বিষদাঁতের সাহায্যে আঘাত করেছে সেখানে ছোট আঁচড়ের চিহ্ন বা ছোট ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়। ক্ষতস্থানের নিম্নস্থতন্তু সমূহের কালচে বেগুনি বর্ণের হয় এবং ক্ষতস্থানের চারিপাশে অনেকটা রক্তের মত দেখতে আঠালো চটচটে তরল পদার্থ জমা হয়। দংশিত অংশে তীব্র জ্বালাকর বেদনা হয় এবং এটিই দংশনের প্রাথমিক লক্ষণ। মানুষের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেবার পরে, কিছুটা সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে নতুন করে লক্ষণাবলী প্রকাশ পায়। মোটামুটি গড়ে এক ঘন্টা পরে এই লক্ষণাবলী। প্রকাশ পায় একবার লক্ষণাবলী প্রকাশ পেলে, তা খুব দ্রুত মারাত্মক রূপ ধারণ করে। এক প্রকার মাদকাসক্তের ন্যায় অনুভূতি উৎপন্ন হয়, এরপরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উপর রোগীর নিজস্ব ক্ষমতা লোপ পায়। রোগীর কথা বন্ধ হয়ে আসে, গলাধঃকরণ করতে পারে না। এবং ঠোঁটের নড়াচড়া আয়ত্তাধীন থাকে না। প্রচুর পরিমানে লালাস্রাব নির্গত হয়। শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রমশঃ মন্থর থেকে মন্থরগতি সম্পন্ন হয়ে থাকে এবং সব শেষে তা বন্ধ হয়ে যায়। রোগী সকল সময়ে সজ্ঞানে থাকে। এটি ল্যাকেসিস বা ক্রোটেলাসের মত রক্তস্রাবী অথবা রক্তদুষ্টির ঔষধ নয়। এই ঔষধটির ক্রিয়া হৃদপিন্ডের চারিপাশে প্রকাশ পায়; হৃদকোষ্টের গোলযোগ। সুস্পষ্টভাবে রক্ত উপর দিকে জোরে প্রবাহিত হয়, সুস্পষ্ট শ্বাসকষ্ট, কিছুতেই বামদিকে ফিরে শুতে পারেনা। হৃদপিন্ডের বিবৃদ্ধি এবং হৃদপ্রকোষ্ঠের গোলযোগ। সমূহ। শারীরিক যন্ত্রগুলি মনে হয়, যেন টেনে একস্থানে রাখা হয়েছে। ঠান্ডায় অত্যন্ত অনুভূতি প্রবণ। হৃদপিন্ডের লক্ষণসহ, কপালে ও রগে বেদনা উপস্থিত থাকে। রোগের প্রাথমিক উচ্ছাস নির্ভর করে মোটর বা সঞ্চালক স্নায়ুকোষের বিকলতার উপর। সঙ্কোচক পেশী সমূহের কাজ নিজের আয়ত্তাধীন থাকে না।

মন – কাল্পনিক কষ্ট সম্বন্ধে অবিরাম গভীর চিন্তায় মগ্ন থাকে। আত্মহত্যা করার উন্মাদনা (অরাম)। বিষাদগ্রস্ত। কথা বলতে বিতৃষ্ণা অসংলগ্ন কথাবার্তা। বিষন্নতা। একা থাকতে ভয়। বৃষ্টি হবে বলে ভয় করে।

মাথা – বামদিকের রগে এবং বাম দিকের চক্ষুকোটর স্থানে বেদনা, বেদনা মাথার পিছন দিক পর্যন্ত প্রসারিত হয়, তৎসহ বমিবমিভাব ও বমি। হে-ফিভার, তৎসহ কণ্ঠস্বর শুষ্ক। ঘুমের পরে থেকে থেকে শ্বাসরোধের মত অবস্থা (ল্যাকেসিস)। চোখগুলি একদৃষ্টিতে স্থির হয়ে থাকে। উভয় দিকের চোখের পাতা ঝুলে পড়ে।

কান – শ্রবন সম্পর্কিত বিভ্রান্তিকানের শূলবেদনা; কানের পুরান পুঁজ, ভাবসমূহ কালোবর্ণের; লবনে রাখা হেরিং মাছের মত গন্ধ যুক্ত পুঁজ।

শ্বাস-প্রশ্বাস যন্ত্রসমূহ – শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। এই জাতীয় অনুভূতি তৎসহ গলার ভিতর চেপে ধরার মত অনুভূতি। অস্বস্তিকর, শুষ্ক কাশি, কাশি হৃদপিন্ডের ক্রিয়া বৈকল্য হেতু উদ্ভব হয় (স্পঞ্জিয়া, লরোসারেসাস)। চটচটে শ্লেষ্মা ও লালস্রাব। সন্ধ্যার দিকে হাঁপানীর ন্যায় সংকোচনের অনুভূতি। সর্দ্দি থেকে হাঁপানীর শুরু।

 

স্ত্রীরোগ – বামদিকের ডিম্বাশয়ের স্নায়শূল, বাম কুঁচকির বেদনা, যেক্ষেত্রে কারণ বুঝতে পারা যায় না, সেই ক্ষেত্রে এই ঔষধ প্রায়ই উপকারে আসে, বিশেষত: অস্ত্রোপাচারের পরে মনে হয় যেন বেদনা হৃদপিন্ডের দিকে টেনে রয়েছে।

ঘুম – গভীর নিদ্রা, রোগী যেন একটি কাঠের গুঁড়ির মত পড়ে থাকে, নাক ডাকার মত শব্দ করে শ্বাস-প্রশ্বাস, এই জাতীয় সাপ মানুষকে কামড়ালে, এই একই জাতীয় অবস্থা প্রকাশ পায়।

কমা-বাড়া-বৃদ্ধি – উত্তেজক, কিছু ব্যবহারের পরে,

উপশম – মুক্ত বাতাসে ভ্রমন করলে অথবা গাড়ীঘোড়া চললে।

সম্বন্ধ-তুলনীয় – সাধারণভাবে যাবতীয় সাপের বীষ থেকে তৈরী হওয়া ঔষধসমূহ, ল্যাকেসিস, ক্যোটেলাস, স্পাইজেলিয়া, স্পঞ্জিয়া,

শক্তি – ৬ ষ্ট থেকে ৩০ শক্তি।

ন্যাজার ব্যবহার উহা পরীক্ষা অপেক্ষা বেশী বিস্তৃত হইয়াছে। সর্পবিষ জাতীয় ঔষধগুলির কতকগুলি সাধারণ লক্ষণ আছে, উহা ন্যাজার লক্ষণগুলির সদৃশ সুতরাং অনেক কিছুই অনুমান করিয়া লওয়া হইলেও, তাহা সত্য। এই ঔষধগুলির মধ্যে অনেকগুলি প্রকৃতিগত লক্ষণ আছে, আবার প্রত্যেক ঔষধেরই তাহার নিজস্ব বিশিষ্ট ক্রিয়াক্ষেত্রও আছে। একসঙ্গে ধরিলে এই শ্ৰেণীটির আরোগ্যকর ক্রিয়া বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত।

ব্রাজিলের ডাঃ মিউর মনে করিতেন যে, সর্ববিধ শ্রেণীর আরোগ্যকর ক্রিয়াসকল মনুষ্যজাতির উপরেই বলবৎ হইতে পারে।

পীড়িত হইলে মানুষ তাহার ঔষধ ধাতুজগতে পাইয়া থাকে, অনুরূপভাবে উদ্ভিদজগতে ও জীবজগতেও পায় । ইহাও সম্ভবপর যে, মানুষের আরোগ্য ঐ প্রদেশের রোগসমূহকে আরোগ্য করার উপযুক্ত সবকিছুই পাওয়া যাইতে পারে। এক রাজ্যে যাহাকিছু থাকে সম্ভবতঃ অপর রাজ্যেও তাহা থাকিতে পারে। খনিজরাজ্যেই সর্বাপেক্ষা নিম্নস্তরের, তারপর উদ্ভিজ্জ এবং সর্বশেষে প্রাণীরাজ্য। যদি আমরা কোন একটি রাজ্য সম্বন্ধে সম্পূর্ণ জ্ঞান লাভ করিতে পারিতাম, তাহা হইলে সম্ভবতঃ আরোগ্যক্রিয়ার জন্য যাহা প্রয়োজন তাহার সবকিছুই উহার মধ্যে পাইতে পারিতাম । কিন্তু আমাদের প্রত্যেক রাজ্যের কয়েকটি মাত্র ঔষধ সম্বন্ধেই জ্ঞান আছে।

আর একটি ধারণা চলিয়া আসিতেছে যে, বিশেষ কোন প্রদেশের উদ্ভিজ্জরাজ্যে ঐ প্রদেশের রোগসমূহকে আরোগ্য করার উপযুক্ত সবকিছুই পাওয়া যাইতে পারে। যদি আমরা সকলপ্রকার উদ্ভিজ্জের সহিত পরিচিত হইতে পারিতাম, তাহা হইলে বুঝিতাম যে, আমরা এখন যাহা জানি তাহার তুলনায় কত বেশী জানা সম্ভব! খুব সম্ভবতঃ পীড়িত মানবকুল হইতে এমন অনেক কিছু নির্গত হয়, যাহা উদ্ভিজ্জজগৎ শোষণ করিয়া লয়। যে-প্রদেশে যে সকল উদ্ভিজ্জ জন্মে, সেই প্রদেশের মানবকুলের কোন কিছু হইলে, ঐ উদ্ভিজ্জগুলির মধ্যেই তৎসদৃশ ঔষধি পাওয়া যায়। দুই হাজার বৎসরের মধ্যে উদ্ভিজ্জজগতের বন্ধনক্রিয়া সম্বন্ধে কিছু বাধা সৃষ্টি করার প্রয়োজন হইতে পারে। পূর্বোক্ত দূষিত পদার্থসমূহের শোষণের ফলে উহাদের রকমের পরিবর্তন হইতে পারে এবং যদি উহারা ক্রমাগত বাড়িতে থাকে এবং প্রত্যেকটি মানবজাতি হইতে অনিষ্টকর পদার্থ শোষণ করিতে থাকে, তাহা হইলে উহাদের গুণের মধ্যেও পার্থক্য আসিয়া পড়িতে পারে। এইভাবে ক্রমবিবর্তন চলিতে থাকে এবং এইভাবে ক্রমবিবর্তনের একপ্রকার ব্যাখ্যা করা হয়।

অন্যান্য সর্পবিষগুলির লক্ষণের সহিত ন্যাজার লক্ষণগুলির তুলনা করা প্রয়োজন। রোগী জামার কলার গলার খুব নিকটে থাকিলে অস্বস্তিবোধ করে, নিদ্রার পর বৃদ্ধি-লক্ষণযুক্ত হয়। এইদিক হইতে ইহা কতকটা ল্যাকে’ সদৃশ। বামদিক হইতে লক্ষণগুলি ডানদিকে যায় অর্থাৎ ডিম্বকোষের যন্ত্রণা, ডিপথেরিয়া, সন্ধিরোগগুলি বামদিক হইতে ডানদিকে প্রসারিত হয়। ন্যাজা ‘ল্যাকে’র ন্যায় ভিজা আবহাওয়ায় বৃদ্ধিযুক্ত হয়। প্রদাহিত স্থানের উপর ইহা ধূসরাভ নিঃস্রাব উৎপাদন করে। এই লক্ষণটি ল্যাকে’ ও ‘ক্রোটেলাসে যত বিস্তৃতভাবে দেখা যায়, ন্যাজায় ততটা দেখা যায় না। ন্যাজাতে রক্তদুষ্টির ছায়ামাত্র আছে, কিন্তু ল্যাকেসিসে উহা বেশী বেশী এবং ক্রোটেলাসে’ অতি সুস্পষ্ট। ল্যাকে’ বা ‘ক্রোটেলাসে এই দুইটির কোনটির ন্যায় ন্যাজা রক্তস্রাবপ্রবণ নহে।

পেশীসমূহের কম্পন, বাতধাতুদোষ, এবং সমস্ত রোগেরই হৃদপিন্ডে স্থান পরিগ্রহ করার প্রবণতা। যে-সকল যুবক হৃদকপাটিকার রোগের সহিত বাড়িতে থাকে, তাহাদের হৃদকপাটিকার যন্ত্রণায় ইহা ব্যবহৃত হয়। সকল উপসর্গই যেন হৃদপিন্ডে স্থান পরিগ্রহ করে। ইহা ন্যাজাসূচক এবং সচরাচর ন্যাজা দ্বারাই আরোগ্য হয়। যদি হৃদকপাটিকার রোগ জন্মগত হয়, তাহা হইলে উহা আরোগ্য করা যায় না, কিন্তু যদি তাহা না হয়, তাহা হইলে দেখা যায় যে, উপদ্রবজনক সকল শক্তিই হৃদপিন্ডের চারিদিকে স্থিত হয়। সকল রোগ লক্ষণই হৃদপিন্ডে স্থানপরিগ্রহ করে। ন্যাজাতে ইহা আছে। বিদ্যালয়ের বালক-বালিকাদিগের অন্য কোন লক্ষণ না থাকিলে, ঐ প্রকার রোগে ইহাই সাধারণ ঔষধ। যদি খুব নির্দিষ্ট লক্ষণ দ্বারা অন্যদিকে পরিচালিত না হও, তাহা হইলে সর্বদাই ন্যাজা ব্যবস্থা করিও।

ন্যাজাতে স্নায়বিক লক্ষণ অধিক, ল্যাকে’তে রক্তদুষ্টি-লক্ষণ অধিক। ন্যাজাতে রক্তদুষ্টি ব্যতীত স্পষ্ট বিলোড়ন; ‘ল্যাকে’তে সর্বপ্রকার স্নায়বিকতার সহিত রক্তস্রাবপ্রবণতা,রক্ত কাল, পোড়া খড়ের ন্যায়, কাল চাপচাপযুক্ত।

ন্যাজায় ‘ল্যাকে’র ন্যায় উপরদিকে রক্তের উচ্ছ্বাস আছে ইহা একটি কষ্টদায়ক লক্ষণ। হৃদপিন্ডসংক্রান্ত বা অন্যরূপ স্পষ্ট শ্বাসকৃচ্ছ্বতা আছে। বুকে পূর্ণতাবোধ আছে, কণ্ঠ ও কণ্ঠনলীতে যথেষ্ট হাজাভাব আছে, সমগ্র বায়ুপথটি ছাল উঠার মত হাজাযুক্ত বোধ হয়।

নাক হইতে জল গড়ানর সহিত প্রচুর হাঁচি আছে, রাত্রিকালে শুইতে অক্ষমতা, নাসিকার বায়ুপথগুলির শুষ্কতা, ঔষধিগন্ধ জ্বর। আগষ্ট মাসে রোগীর শ্বাসরোধের ন্যায় আক্রমণ হয়।

সমগ্র বক্ষদেশ রক্তসঞ্চয় অবস্থায় থাকে, বুকের বামপার্শ্বের খালিখালিভাব, নাড়ী ক্ষীণ বা সবিরাম। এইসকল বৃক্ষের উপদ্রবের সহিত বামপার্শ্বে শুইতে অক্ষমতা থাকে, বাম বাহুর অসাড়তা। শ্বাসকৃতা থাকে, যদি সে নিদ্রা যায়, সে শ্বাসরোধবিশিষ্ট হইয়া, গলরোধবিশিষ্ট হইয়া, হাঁপাইয়া জাগিয়া উঠিবে, অথবা স্বপ্ন দেখিয়া চমকাইয়া উঠার ন্যায়, ঘুম হইতে চমকাইয়া জাগিয়া উঠিবে। অধিকাংশ রোগেই বামপার্শ্বে শুইতে অক্ষমতা থাকে ।

হাতের তালুতে ঘামিতে থাকার সহিত একপ্রকার শুষ্ক খকখকে কাশি থাকে, তাহা ন্যাজা দ্বারা আরোগ্য হয়। হৃদপিন্ডের এইসকল রোগের সহিত একপ্রকার শুষ্ক খখকে কাশি থাকে; প্রত্যেকবার সামান্যমাত্র পরিশ্রম করিলেই কাশি উদ্ৰিক্ত হয়, ইহা সর্দিজ অবস্থা নয় অথবা ইহা যক্ষ্মারোগজ অবস্থা নয়। হৃৎপিন্ড ধীরে ধীরে চলে এবং জোরে কাজ করিতে চায় না এবং সেইজন্য পরিশ্রম করিলে কাশি উপস্থিত হয়। ক্যাক্টাসে’ও হৃদপিন্ডসংক্রান্ত কাশি আছে।

হস্ত-পদাদি শীতল ও নীল এবং মাথা উত্তপ্ত হয়। মস্তক-লক্ষণ গরম ঘরে বর্ধিত হয়, মাথা গরম, জ্বরবিশিষ্ট মনে হয়, তথাপি পায়ের পাতা এবং অঙ্গটি গরম হয় না। হাতে ও পায়ের পাতায় প্রচুর ঘর্ম হইতে থাকে, তাহাতে হাতের দস্তানা ও পায়ের জুতা পচিয়া উঠে, কিন্তু ঐ ঘৰ্ম্মে দুর্গন্ধ থাকে না। হাতের ও পায়ের পাতার একপ্রকার পূর্ণতা ও ফুলাভাব থাকে। উহাতে বুঝা যায় যে, আমরা যেরূপ আশা করিতে পারি, সেইরূপ রক্তের ধীর সঞ্চালন থাকে।

আমরা স্বভাবতঃ আশা করিতে পারি যে, ঐরূপ রোগী অতিশয় উত্তেজনাপ্রবণ ও প্রচন্ড হইবে, এবং সেইরূপ হইয়াও থাকে। তাহার আত্মহত্যার ঝোঁক থাকে।

শিরঃপীড়া অবর্ণনীয় প্রকৃতির, উহা সমস্ত মাথায়, প্রধানতঃ মাথার পশ্চাদ্দিকের রক্তসঞ্চয় প্রকতির। শিরঃপীড়ার সহিত দ্রুত ও স্নায়বিক নাড়ী।

সকল সর্পবিষের সহিতই গভীর নিদ্রার সংযুক্ত থাকে। রোগী গভীরভাবে, গাঢ় নিদ্রা যায় এবং নিদ্রার মধ্যে কষ্টকর শ্বাসক্রিয়া চলিতে থাকে।

প্রতিদিন প্রাতে তিনি (স্ত্রী) শিরঃপীড়ার সহিত জাগিয়া উঠেন। সাধারণতঃ ন্যাজাজ্ঞাপক শিরঃপীড়া প্রতিদিন প্রাতে উপস্থিত হয় এবং কাজকর্ম করিলে চলিয়া যায়। অন্যান্য লক্ষণ পরিশ্রমে বাড়ে। মনোলক্ষণ মানসিক পরিশ্রমে বাড়ে।

ইহার ঔষধিগন্ধ জ্বরের সহিত কতকগুলি লক্ষণ থাকে। গলা ও কণ্ঠনলীতে হাজাভাব, গলায় ভয়ানক টনটনানি, উহা কণ্ঠনলী পৰ্য্যন্ত প্রসারিত হয়, উহা ঢোক গেলায় উপশমিত হয় না।

গলায় একটি ডেলা থাকার ন্যায় অনুভূতির সহিত ‘ল্যাকে’ জ্ঞাপক অবস্থা প্রকাশিত হয়, গলরোধের অনুভূতির সহিত সে হাত দিয়া গলা চাপিয়া ধরে। ই ন্যাজা রোগীর গুরুতর প্রকৃতির ব্রঙ্কাইটিস হয়। কণ্ঠনলীর ও কণ্ঠের মধ্যে হাজাভাব থাকে, উহা কাশিবার পর বাড়ে।

ইহা একটি হাঁপানির, বিশেষতঃ হৃদপিন্ডসংক্রান্ত, হাঁপানির বড় ঔষধ। শ্বাসক্রিয়া এতই খারাপ থাকে যে, সে শুইতে পারে না।

ইহা পুরাতন স্নায়বিক স্পন্দনের পক্ষে উপকারী যে-কোনরূপ পরিশ্রমের পর হৃদস্পন্দন । পুরাতন স্নায়বিক হৃদস্পন্দন, গলরোধহেতু সে কথা বলিতে পারে না।

হৃদপিন্ড রোগের সহিত দুই স্কন্ধের মধ্যবর্তী পৃষ্ঠে অবিরত অপ্রবল কনকনানি। সময়ে সময়ে উত্তাপের অনুভূতি এবং ঐ কনকনানির অনুভূতি ব্যতীত এই ঔষধজ্ঞাপক আর কোন । লক্ষণই বর্তমান থাকে না, ঐ স্থানে তাহার এত শ্রান্তিবোধ থাকে যে, শুইয়া পড়িতে চায় অথবা পৃষ্ঠকে বিশ্রাম দিবার জন্য কোন কিছুতে হেলান দিতে চায়।

হৃদস্পন্দন বামপার্শ্বে শুইলে বর্ধিত হয়, চলাফেরা করিলে বর্ধিত হয়।

খুব অল্পসংখ্যক লক্ষণ থাকে, এইরূপ হৃদপিন্ডরোগের পক্ষে ইহা আমাদের সর্বাপেক্ষা উপযোগী ঔষধ। একথা অবশ্যই সত্য যে, ন্যাজা তাহার লক্ষণগুলি প্রকাশের জন্য ঐ স্থানটিই বিশেষভাবে বাছিয়া লয়।

* . (Naja, from nag, which in Hindustandi from snake. This is the common Cobra of India. Naja first proved by Dr. Stokes, of England and the account published in 1853.)

* অপর নাম -কোব্রা (Cobra dicapello)

. হুডেড স্নেক (Hooded snake)

* ইহা ইলাপাইডী জাতীয় গোখুব সাপের বিষ। বিষ গ্রন্থি থেকে বের করে একে সাধারণ পদ্ধতি অনুসারে বিচুর্ণ প্রস্তুত করা হয়।ইহা ল্যাকেসিসের একটি আত্মীয়, যদি সকল সর্পবিষকে সম্বন্ধযুক্ত মনে করা হয় এবং সর্পদংশন লক্ষণ অনুযায়ী অন্যান্য সপবিষের মত আরোগ্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, তাহলে ইহা একটি মূল্যবান ঔষধ। কিন্তু একে এখনও পর্যন্ত সেইভাবে পাওয়া যায় নি। কিন্তু কেন।

অ্যালেনের এনসাইক্লোপিডিয়ায় আমরা ল্যাকেসিসের ২৯ জন এবং ন্যাজার ৪৫ জন পরীক্ষাকারীকে দেখেছি। তবে ল্যাকেসিস অবশ্য দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহৃত হয়েছে, তবুও এই সময়ের পার্থক্যে উপকারীতার এত ইতর বিশেষ হতে পারে কি। এর সঙ্গে অবশ্য আর একটি বিষয় লক্ষ্য করার আছে, ল্যাকেসিসের পরীক্ষা ৩০শক্তিমত উচ্চশক্তি দিয়ে হয়েছিল আরন্যাজার সেক্ষেত্রে সব পরীক্ষাই নিম্নশক্তিতে বা সর্প দংশনের অসংস্কৃত বিষ দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছিল। ইহাই কি তারতম্যের কারণ।

আমরা একই প্রামাণিক গ্রন্থে দেখতে পাইল্যাকেসিসের ৩০শক্তিতে পরীক্ষা দ্বারা উৎপন্ন সকল লক্ষণইসুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত হয়েছে। তাহলে ইহই কি প্রমাণ করে যে ন্যাজাবঅধিকাংশ সুস্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশের জন্য একেও ঐ ৩০ শক্তি দ্বারা পরীক্ষা করা উচিত ছিল। হৃদরোগে ন্যাজার উপকারীতা নিশ্চিতভাবে দেখা গেছে, বিশেষ করে হৃৎপিণ্ডের দুৰ্বলতায় (নাক্স ভমিকাতে অবসাদ বোধ), এবং ডিপথিরিয়ায় যখন হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ায় উপক্রম বা পক্ষাঘাত আসন্ন মনে হয় তখন ন্যাজা উপকারী। হৃৎপিণ্ডের দুর্বলতার জন্য শ্বাসকষ্ট, অবসন্নতা, আন্ত্রিকরোগে হৃৎপিণ্ডেরদুৰ্বল ক্রিয়া সহযোগে হৃৎকম্পও হৃৎপিণ্ডের অস্বস্তি হাঁটায় বাড়লেন্যাজা উপযোগী। (হৃৎপিণ্ডের দুর্ব্বলক্রিয়া সহ শুকনো কাশি স্পঞ্জিয়া)।

বিশেষ করে হৃৎপিন্ডের পুরাতন দুৰ্বলতা ও উপরোক্ত গোলাযোগে ন্যাজার উপকারীতা সম্বন্ধে কোন সন্দেহ নেই।

এর রোগী অরাম মেটের মত সৰ্ব্বদাই আত্মহত্যার চিন্তা করে।

এছাড়া এই ঔষধটি ব্যবহারের আর অন্য বেশী কিছুনিষিচত সফলতা সম্বন্ধে আমাদের জানা নেই। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ল্যাকেসিসের পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসারে একেও অনুসন্ধান করলে ল্যাকেসিসকে ছাড়িয়ে না গেলেও ইহ ও সমকক্ষ হতে পারত।

 

About The Author

M.D (AMCC, Kolkata, India) M.M (B.M.E.B) D.H.M.S (B.H.B)

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!