PICRICUM ACIDUM [Pic-ac] পিক্রিকাম অ্যাসিডাম

যত বেশী যৌন ইচ্ছা, তত বেশী অবসাদ বা যৌন অক্ষমতা।
অল্প কিছুক্ষণ পড়াশুনা করলে মেরুদণ্ড বরাবর জ্বলে, মেরুদণ্ডে ও পীঠে অত্যন্ত দুর্বলতা, স্পার্মেটিক কর্ডের কোমলতা।
সমস্ত শরীর বিশেষত হাত-পা অত্যন্ত ক্লান্ত অনুভূতি হয়, পরবর্তিতে পক্ষাঘাত উপস্থিত হয়।
মাথা বাধলে মাথা ব্যথার উপশম, মানসিক পরিশ্রমীদের অক্সিপুট ও সার্ভাইক্যাল রিজনে ব্যথা।

উপযোগিতা – স্বাস্থ্য নষ্ট হয়েছে, জীর্ণ শীর্ণ এমন অবস্থায় উপযোগী। স্নায়বিক অবসন্নতার” একটি পূর্ণচিত্র (কেলি-ফস) এমন রোগীতে উপযোগী! ক্রমবর্ধনশীল ভয়ঙ্কর রক্তশূন্যতা অত্যন্ত স্নায়বিক দুর্বলতা, অবসন্নতা ও ক্লান্তিভাব (Neurasthenia)।

মস্তিষ্ক অবসন্ন – যারা পড়াশোনা করে ও ব্যবসায়ীদের সামান্য উত্তেজনা, মানসিক পরিশ্রম বা বেশী মাথার কাজ করে মাথাযন্ত্রণা হয় ও মেরুদন্ড বরাবার জ্বালা হতে থাকে এমন লোকেদের পক্ষে উপযোগী (কেলি-ফস)।

মাথাযন্ত্রণা – ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষকদের ও কঠোর পরিশ্রমী ব্যবসায়ীদের, শোকদুঃখ বা হতাশজনিত মানসিক আবেগ হলে হয়। মাথার পেছনে ও ঘাড়ের দিকে মাথা যন্ত্রণা হয় (নেট-মি, সাইলি), সামান্য নড়াচড়ায় বা মানসিক পরিশ্রমে বেড়ে যায়।

লিঙ্গোত্থান মাঝে মাঝেই হয় (Priapism) ঐ সাথে মেরুদন্ডের কোন অসুখ থাকে। তীব্র লিঙ্গোচ্ছাস বহুক্ষণ স্থায়ী হয়, বীর্যপাত অনেকটা হয়, পুরুষদের কামোন্মত্ততা (ক্যান্থা, ফস) এসব লক্ষণে উপযোগী।

সারাদেহে যে কোনস্থানে ছোট ছোট ফোড়া হয় কিন্তু বিশেষতঃ কর্ণকুহরের বাইরের দিকে হয় না।

সমস্ত মেরুদন্ডে জ্বালা ও মেরুদন্ডে ও পিঠে অত্যন্ত দুর্বলতা, মেরুমজ্জা কোমল হয়ে যায় (ফস, জিঙ্কাম)।

ক্লান্তিভাব — সামান্য পরিশ্রান্ত হওয়ার অনুভূতি সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতের দিকে এগিয়ে চলে ।

সারাদেহে বিশেষতঃ হাত পায়ে ভারবোধ, ক্লান্তিবোধ- পরিশ্রমে ঐ অনুভূতি বেড়ে যায়।

সম্বন্ধ — তুলনীয়—আর্জ-নাই, জেলস, কেলিফস, এ্যাসিড-ফ, পেট্রোলি, সাইলি।

উপশম – ঠান্ডা বাতাসে ও ঠান্ডা জলে।

বৃদ্ধি — সামান্যতম মানসিক পরিশ্রমে, নড়াচড়ায়, পড়াশোনা করলে, ভেজা আবহাওয়ায়।

শক্তি – ৬, ৩০। পার্ণিসিয়াস এ্যানিমিয়ায় দারুণ সুফলদায়ক = দাশগুপ্ত।

এই ঔষধটি সুষুম্নকান্ডের বিকৃত পরিবর্তন এবং তৎসহ পক্ষাঘাত উৎপন্ন করে। মস্তিষ্ক বিকার ও যৌন সম্পর্কিত উত্তেজনা। জননেন্দ্রিয়ের উপর ঔষধটি কাজ করে, অনুমান করা হয় যে, সুষুম্নাকান্ডের কোমর প্রদেশীয় অংশের ভিতর দিয়ে ঔষধটি জননেন্দ্রিয়ের উপর কাজ করে; অবসন্নতা, দুর্বলতা ও পিঠের বেদনা, অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ঝিনঝিন করে। স্নায়বিকঅবসন্নতা (অকজ্যালিক। অ্যাসিড)। পেশীর দুর্বলতা। অতিরিক্ত ক্লান্তির অনুভূতি। সুষুম্নাকান্ডের প্রদাহ তৎসহ আক্ষেপ ও অবসন্নতা। লেখকদের পক্ষাঘাত। ক্রমশঃ বৃদ্ধিপ্রাপ্ত, উৎকট জাতীয় রক্তাল্পতা। রক্তে ইউরিয়ার উপস্থিতি তৎসহ সম্পূর্ণভাবে মূত্র তৈরী না হওয়ায়। এই ঔষধের শতকরা এক শতাংশ, পোড়া অংশে প্রলেপ দেওয়ায় সব থেকে ভালো পদ্ধতি; যত সময় পর্যন্ত পোড়া অংশে মাংসাঙ্কুর না গজায় ততসময় পর্যন্ত এই প্রলেপ দেওয়া চলবে। গাত্র ত্বক মলিন।

মন – ইচ্ছা শক্তির অভাব; কাজ করতে অনিচ্ছা। মস্তিষ্কের কোমলতা। মানসিক শক্তির স্বল্পতা তৎসহ দুর্বলতা, চুপচাপ, অমনোযোগের সঙ্গে বসে থাকে। – মাথা মাথার বেদনা; মাথায় কষে বন্ধন দিয়ে রাখলে উপশম। মাথার পিছনের অংশে বেদনা; সামান্য মানসিক পরিশ্রমে বৃদ্ধি। মাথা ঘােরাও কানের ভিতরে শব্দ হয়। কানের ভিতরে ও ঘাড়ের পিছনে ফোঁড়া। দীর্ঘকাল মানসিক শ্রমের পরে, তৎসহ উদ্বেগ ও পরীক্ষায় পাশ করতে পারবে না এই জাতীয় ভীতি থেকেউদ্ভত অবস্থায় এই ঔষধ কাজ করে। মস্তিষ্ক বিকার।

চেখ – পুরাতন সর্দিজ চক্ষু প্রদাহ তৎসহ প্রচুর ঘন, হলুদ বর্ণের স্রাব।

পাকস্থলী— তিতো আস্বাদ। খাদ্যে অনিচ্ছা।

প্রস্রাব যন্ত্রসমূহ — প্রস্রাব অল্প সম্পূর্ণভাবে মূত্রের অনুৎপত্তি। ফোঁটা-ফোঁটা করে প্রস্রাব নির্গত হয়।

প্রস্রাবে প্রচুর পরিমানে ইন্ডিক্যান, দানাদার ও চর্বিযুক্ত এপিথিলিয়্যাল কোষ থাকে। বৃক্কের প্রদাহ তৎসহ প্রচন্ড দুর্বলতা, কালচে, রক্তমিশ্রিত, অল্প প্রস্রাব। রাত্রিকালীন বেগ।

পুরুষের রোগ – প্রচুর পরিমানে বীর্যপাত, এর পরে প্রচন্ড দুর্বলতা, কিন্তু বীর্যপাতের পূর্বে কামোদ্দীপক স্বপ্ন দেখা যায় না। বেদনাপূর্ণ লিঙ্গোদ্রেক; পুরুষের কামোন্মাদ। কঠিন লিঙ্গোদ্রেক, তৎসহ অন্ডদ্বয়ে ও রেতঃ রজ্জুতে বেদনা। প্রস্টেট গ্রন্থির বিবৃদ্ধি বিশেষ করে যেখানে রোগটি বেশী দূর বিস্তার লাভ করে নি, সেই ক্ষেত্রে ঔষধটি উপযুক্ত।

স্ত্রীরোগ – বামদিকের ডিম্বাশয়ে বেদনা ও ঋতুস্রাবের পূর্বে প্রদর স্রাব। যোনি কপাটের

চুলকানি।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ – মেরুদন্ড বরাবর জ্বালা। প্রচন্ড দুর্বলতা। ক্লান্তি সমগ্র শরীরের ভারবোধ, বিশেষ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে, পরিশ্রমে বৃদ্ধি। পায়ের পাতাদ্বয় শীতল। কিছুতেই নরম হয়ে উঠে না। তরুন, ঊধর্বগামী পক্ষাঘাত।

কমা-বাড়া- বৃদ্ধি, সামান্য পরিশ্রমে, বিশেষ করে মানসিক পরিশ্রমে, ঘুমের পরে, ভিজে আবহাওয়ায়। এটি একটি গ্রীষ্মকালীণ বা উষ্ণ আবহাওয়ার ঔষধ;রোগীর সকল কষ্ট ও সময় বৃদ্ধি পায়। এ উপশম ঠাণ্ডাবাতাসে, ঠান্ডা জলে, কষে চাপ দিলে।

সম্বন্ধ-তুলনীয়—অজ্যালিক অ্যাসিড; জেলসিমিয়াম; ফসফরাস;সাইলিশিয়া; আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম।

তুলনীয় – জিঙ্কাম পিক্রিকাম (মুখমন্ডলের পক্ষাঘাতে)।

ফেরাম পিক্রিক (কানের ভিতরে ঝি ঝি শব্দ, বধিরতা; পুরাতন গেঁটে বাত;নাক থেকে। রক্তস্রাব; প্রস্টেটগ্রন্থির উপসর্গে তুলনীয়);

ক্যাল্কেরিয়া পিক্রিক (কানের ভিতরেও কানের চারিপাশের ফোঁড়ার ক্ষেত্রে তুলনীয়)। শক্তি- ৬ষ্ঠ শক্তি।

যে পাঠক সতর্কভাবে ইহার পরীক্ষায় আলোচনা করেন, তাহার মনে যে প্রথম ধারণা জন্মে, তাহা হইল শরীর ও মনের দুর্বলতা। উহা বর্ধনশীল হয় এবং শান্তিভাব হইতে পক্ষাঘাতে চলিয়া যায়। মস্তিষ্কের ও মেরুমজ্জার কোমলতা প্রাপ্তির প্রমাণ সুস্পষ্ট থাকে। সে শীঘ্রই উত্তাপে অনুভূতিবিশিষ্ট হয়, এবং শীতল বাতাস আকাঙ্ক্ষা করে, উহাতে তাহার মাথায় ও দেহের অবস্থার উপশম হয়। ঠান্ডা বাতাস এবং ঠান্ডা জলে স্নান তাহার পক্ষে উপকারী হয়। সে আর্দ্র আবহাওয়ায় অনুভূতিবিশিষ্ট থাকে। নানা অঙ্গের অসাড়ভাব, কম্পন, অবসন্নতা, ভারবোধ, তাহাকে শুইয়া থাকিতে হয়; সামান্য পরিশ্রমে বৃদ্ধি একটি স্পষ্ট লক্ষণ। নিদ্রাহীনতা, মানসিক দুশ্চিন্তা, মানসিক পরিশ্রম,এইগুলি রোগলক্ষণগুলি সম্বন্ধে উত্তেজক কারণ হয়। অত্যন্ত ঔদাসিন্য।

ঔদাসিন্য, ইচ্ছাশক্তির অভাব, কথাবলা, চিন্তাকরা অথবা কোনরূপ মানসিক পরিশ্রম করিতে অপ্রবৃত্তির সহিত মস্তিষ্ক ক্লান্তির পক্ষে ইহা একটি আদর্শ ঔষধ। সে সামান্য মাত্র মানসিক পরিশ্রমে দ্রুত অবসন্ন হইয়া পড়ে এবং উহাতে অনেক লক্ষণ,—যথা ক্ষততা এবং খঞ্জতা, উদরাময়, মেরুদন্ড বারবার জ্বালা, সর্বাঙ্গীণ দুর্বলতা, এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও পৃষ্ঠে ভারবোধ উপস্থিত হয়। সে সব বিষয়েই স্বার্থবোধ হারাইয়া ফেলে, সামান্য মানসিক পরিশ্রমেই উত্তেজিত হইয়া পড়ে। বিদ্যালয়ে পাঠকারী অল্পবয়স্ক বালিকাদের মধ্যে আমরা এই অতিমূল্যবান অথচ অবহেলিত ঔষধটির সাধারণ উপযোগিতা দেখিতে পাই। শিশু যখন বর্ণমালা শিখিতে আরম্ভ করে, তখন তাহার শিরঃপীড়া উপস্থিত হয় এবং প্রতিবার চেষ্টাতেই উহা ফিরিয়া আসে, সময়ে। সময়ে উহার সহিত চক্ষুতারকা বিস্তৃত হয়। প্রত্যেকবার বিদ্যালয়ের পরীক্ষার পর ঐরূপ তীব্র শিরঃপীড়া উপস্থিত হয়। নিম্নলিখিত লক্ষণবিশিষ্ট বিদ্যালয়ে পাঠকারী একজন লোক এই ঔষধে সতুর আরোগ্য হইয়াছিল ছাত্রসুলভ শিরঃপীড়া, দাড়াইয়া থাকিলে শিরোঘূর্ণন, মস্তকে ভারবোধ, নাক দিয়া রক্তপড়া, চক্ষুতারকা বিস্তৃত, চক্ষুর শ্বেতমন্ডলে রক্তসঞ্চয়, কৃত্রিম আলোক সহ্য করিতে অক্ষমতা, ক্ষুধাহীনতা, মুখে তিক্তস্বাদ, বমন, কামলা রোগ। মানসিক পরিশ্রমে শিরোঘূর্ণন, অবনত হওয়ায়, চলায়, উপরে উঠায়, বালিশ হইতে মাথা তোলায় খঞ্জতাবোধ, উঠিয়া বসিতে পারে না, উহা হইতে শীঘ্রই বমনেচ্ছা উপস্থিত হয়। ইহার সহিত প্রায়ই মাথার যন্ত্রণা সংযুক্ত থাকে। ছাত্র, শিক্ষক, ব্যবসায়ী লোক, অতিপরিশ্রান্ত ব্যবসাদারদিগের শিরঃপীড়ার জন্য ইহা একটি বিশেষ উপযোগী ঔষধ। শোক ও দুঃখজনক মনোভাব হইতে অত্যন্ত স্নায়বিক দুর্বলতা বিশিষ্ট শিরঃপীড়ায়, এই ঔষধটিকে প্রায়ই অবহেলা করা হইয়া থাকে। ইহাতে মস্তকশিখর, মস্তকের পশ্চাঙ্গ এবং কপালের উপর তীব্র যন্ত্রণা আছে এবং অত্যন্ত উত্তাপবোধের সহিত উহা মেরুদন্ড দিয়া নিম্নদিকে বিস্তৃত হয়। রক্তসঞ্চয়জনিত শিরঃপীড়া গরম ঘরে, মাথা অথবা দেহ বস্ত্রাবৃত করিলে বর্ধিত হয় এবং শরীর ও মন বিশ্রাম পাইলে উপশমিত হয়।

শিরঃপীড়া অনেক সময় দিবাগমে আরম্ভ হয় এবং দিনের সহিত বাড়িতে থাকে, উহা রাত্রে ঘুমাইলে উপশমিত হয়। রোগী দিবাকালে সম্পূর্ণ অক্ষম হইয়া পড়ে কিন্তু রাত্রিকালে বিশ্রামে এবং নিদ্রা হওয়ায় স্বচ্ছন্দ হয়। এইরূপ শিরঃপীড়ার সহিত অত্যন্ত অবসন্নতা উপস্থিত হয়। ইহার শিরঃপীড়ার সহিত এবং আরও অনেক রোগের সহিত অত্যন্ত কামবিষয়ক উত্তেজনা উপস্থিত হয় কিন্তু উহা কোন অপরিহার্য লক্ষণ নহে।

যে সকল লোক মস্তিষ্কের ক্লান্তি হইতে ভুগে, তাহাদের চক্ষুর পেশীগুলির দুর্বলতা হইতে চক্ষুরোগসকল । কোনদিকে তাকাইয়া থাকিলে, সূক্ষ্ম ছাপার অক্ষর পড়িলে, এবং যে কোন রূপ চক্ষের পরিশ্রমে শিরঃপীড়া ও চক্ষুলক্ষণগুলি উপস্থিত হয় (“অনসমােডিয়াম’)। চক্ষের মধ্যে বালিপড়ার ন্যায় অনুভূতি, চিড়িকমারা, ক্ষতকর অশ্রুস্রাব, চক্ষুর সম্মুখে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ দেখা, নিকটদৃষ্টি, অস্পষ্টদৃষ্টি, বস্তুগুলি যেন জড়াইয়া গিয়াছে এরূপ দেখায়, চক্ষুতারকাদ্বয় বিস্তৃত হয়, চক্ষুর উপরে ভীষণ যন্ত্রণা হয়। চক্ষে ঘন পিচুটি জন্মে। চক্ষুর লক্ষণগুলি কৃত্রিম আলোকে খারাপ হয়।

বাহ্যকর্ণের শ্রুতিনালীতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফোড়া ও পুঁজবটী।

উদ্গার, নিষ্ফল, টক। প্রাতে বমনেচ্ছা, উঠিয়া পড়িলে এবং ঘুরিয়া বেড়াইলে বৃদ্ধি।

যকৃৎরোগের প্রমাণ থাকে এবং রোগী ন্যাবাগ্রস্ত হয়।

পেটের মধ্যে গড়গড় করে, মানসিক পরিশ্রম হইতে উদরাময়। হলদেবর্ণ, জলের মত, অথবা পাতলা মলযুক্ত তেলের ন্যায় মল, মলত্যাগের পর চিড়িকমারা যন্ত্রণা, মল হলদে আটা গােলার ন্যায়। দুর্বলীভূত ব্যক্তিদের মলত্যাগের পর অত্যন্ত দুর্বলতা।

মূত্রে শর্করা ও অন্ডলালা থাকে। মূত্রের আক্ষেপিক গুরুত্ব অধিক হয়। মূত্র ইউরেটসমূহ, ইউরিক এসিড ও ফসফেটযুক্ত হওয়ায় ভারি হইয়া পড়ে কিন্তু উহাতে সালফেটসমূহের অভাব থাকে। মূত্রত্যাগের পর ফোঁটা ফোঁটা মূত্র পড়ে। মূত্রস্থলীর দুর্বলতা। ফসফেটসমূহের অত্যন্ত ক্ষয়।

পরীক্ষাকালে ইহা সঙ্গমসংক্রান্ত প্রবৃত্তিকে কামোন্মাদনা ও অতিলিল্লায় পরিণত করিয়াছিল, তৎসহ ভীষণ লিঙ্গোদ্রেক ছিল, উহা রাত্রিকালেই অধিক হইত । এইরূপ লক্ষণ দীর্ঘকালস্থায়ী হইলেও ইহা দ্বারা আরোগ্য হইয়াছে। মস্তকের পশ্চাদ্ভাগে ও মেরুদন্ডে যন্ত্রণা, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ভারবোধ এবং সঙ্গমবিষয়ক উত্তেজনা। যেস্থলে পায়ের পাতার অত্যন্ত অস্থিরতা বর্তমান থাকে, তথায় ‘জিঙ্কাম পিক্রিকাম’ আরও ভাল কাৰ্য্য করিবে। মন যদি এই কামোন্মাদনাপূর্ণ অবস্থা সংযত না করিতে পারে, তাহা হইলে ইহা দ্বারা ধ্বজভঙ্গ এবং শুক্রমেহ আরোগ্য হইবে। কি মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রমে মেরুদন্ডে জ্বালাকর উত্তাপবোধ। মেরুদন্ডের দুর্বলতা এবং অঙ্গগুলিতে, বিশেষতঃ নিম্নাঙ্গগুলিতে ভারবোধ। পৃষ্ঠদেশ এত শ্রান্ত থাকে যে, সে সোজা হইয়া বসিতে পারে না; তাহাকে চেয়ারে হেলান দিয়া থাকিতে হয় অথবা শুইয়া পড়িতে হয়। শুইয়া থাকিলে সে উপশম পায়। ইহা মেরুমজ্জাপ্রদাহ রোগে বিশেষ উপযোগী হইয়াছে, উহার সহিত অঙ্গাদির দুর্বলতা এবং দেহ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গে যেন ব্যান্ডেজ জড়ান আছে এরূপ অথবা আকুঞ্চনবৎ অনুভূতি থাকে, আরও, পায়ের অনুভূতিশূন্যতা এবং পায়ে যেন দুইটি স্থিতিস্থাপক মোজা পরান রহিয়াছে এরূপ অনুভূতিও থাকে। কশেরুক-মায়ে ক্ষয়রোগে কষ্টকর লিঙ্গোদ্রেক এবং নিদ্রা গেলেই শুক্রপতন থাকিলে ইহা উপযোগী। এই ঔষধে বহু মেরুদন্ডের দুর্বলতাগ্রস্ত রোগী আরোগ্য হইয়াছে।

নিম্নাঙ্গগুলির দুর্বলতা, তৎসহ কম্পন, অসাড়তা, আকুঞ্চনবোধ। পোকাহাঁটার ন্যায় অনুভূতি এবং সূচ দিয়া খোচানোর ন্যায় অনুভূতি। পায়ের পাতার স্পষ্ট শীতলতা। শারীরিক পরিশ্রমে সকল লক্ষণই বৃদ্ধিযুক্ত হয়; দীর্ঘকাল বিশ্রামের পর উপশমিত হয়। কবি চক – সামান্যমাত্র পরিশ্রমের পর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ও সমুদয় দেহ ক্লান্ত হইয়া পড়ে, অত্যন্ত অবসন্নভাব। অত্যন্ত পৈশিক দুর্বলতা। দিবাভাগে দ্রিালুতা কিন্তু রাত্রে নিদ্রাহীনতা, বিশেষতঃ মানসিক পরিশ্রমের পর।।

অপর নাম – অ্যাসিডাম পিক্রিকাম (Acidum Picricum)।

পিক্রিক অ্যাসিডের নামান্তর, কার্বেজোটিক অ্যাসিড। একভাগ বিশুদ্ধ পিত্রিক অ্যাসিড, ৯৯ ভাগ পরিশ্রুত জলে দ্রবীভূত করলে এর দ্বিতীয় দশমিক ক্ৰম প্রস্তুত হয়। তৃতীয় দশমিক ক্রম জল মিশ্রিত অ্যালকোহল ও পরবর্তী ক্রম অ্যালকোহলে প্রস্তুত হয়।

পিত্রিক অ্যাসিড – পরিক্রমা

ইহা একটি অপেক্ষাকৃত নূতন ঔষধ, কিন্তু ইতিমধ্যেই চিকিৎসা ক্ষেত্রে কতকগুলি মূল্যবান ক্রিয়া প্রকাশ করেছে। ই প্রধানতঃ জীবনীশক্তিকে আক্রমণ করে এবং তা প্রকাশ পায় অতিশয় অবসাদ ও সৰ্বাঙ্গীন ক্লান্তি অনুভবে, তার সঙ্গে সাধারণতঃ মানসিক দুর্বলতা, উদাসীনতা, ইচ্ছশক্তির অভাব, এবং সৰ্ব্বদা শুয়ে থাকার ইচ্ছা থাকে। পা দুটি ভারি বলে বোধ হয়, উহ মাটি থেকে তুলতে কষ্ট হয়। পিঠে থাকে অবিরাম কেনার অনুভূতি, তার সঙ্গে কিছুটা জ্বালাভাব ফেসফরাস ও জিঙ্কাম মেট), সময়ে সময়ে ঐ অনুভূতি পীঠের নীচের দিক পর্যন্ত গিয়ে থাকে। এমনকি মস্তিষ্কও অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে, অতি সামান্য চেষ্টায় বা পরিশ্রমে মাথা বেদনা উপস্থিত হয়। এই মাথা বেদনা প্রায়ই দেখা যায ছাত্রদের, অতি পরিশ্রমজনিত ক্লান্ত ব্যবসায়ীদের, শোক, দুঃখ বা অন্যান্য মানসিক আবেগ দ্বারা অবসাদিত ব্যক্তিদের মধ্যে।

সাধারণতঃ মাথার পিছন দিকে ও গ্রীবাদেশে মাথা যন্ত্রণা থাকে (নেট্রাম মিউর, সাইলিসিয়া) মানসিক পরিশ্রমে উহা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়।

সংক্ষেপে – এই ঔষধটি স্নায়বীয় অবসন্নতার একটি নিখুঁত। চিত্ররূপ উপস্থিত করে।

রোগী বিবরণী –

আমি একজন বৃদ্ধের সুস্পষ্ট মস্তিষ্কের শক্তিক্ষয়ে এই ঔষধটিকে ব্যবহার করে যথেষ্ট উপকার পেয়েছি। তিনি আমার কাছে আসার এক বছর আগেও সবল ছিলেন। তিনি তার মাথার পিছন দিকে এক প্রকার ভারবোধ, কথা বলতে বা চিন্তা করার জন্য মস্তিষ্ক ব্যবহারের অক্ষমতা ও সৰ্বাঙ্গীন ক্লান্তির অনুভবের কথা প্রকাশ করেছিলেন। আমি তাকে পিক্রিক অ্যাসিডের ষষ্ঠ ক্রমের বিচূর্ণ দিয়েছিলাম এবং তাতেই তিনি দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন।

৩। জননেন্দ্রিয়ে, বিশেষ করে পুংজননেন্দ্রিয়ে ফসফরিক অ্যাসিড ও ফসফরাসের ক্রিয়ার সঙ্গে অনেক বিষয়েই পিত্রিক অ্যাসিডের সাদৃশ্য আছে।

এতে লিঙ্গের প্রবল দৃঢ়তা সহকারে দুর্দম্য সঙ্গমেচ্ছা ও তারপরেই দুর্বলতা ও সম্পূর্ণ পুরুষত্বহীনতা আছে। মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও সর্বাঙ্গীন স্নায়বিক অবসাদে, বিশেষত, উহা যদি অতিরিক্ত ইন্দ্রিয় সেবাজনিত হয় তাহলে নিঃসন্দেহে ইহা আমাদের একটি মূল্যবান ঔষধ। জেলসিমিয়াম, ফসফরিক অ্যাসিড, ফসফরাস, আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম, সালফার, অ্যালুমিনা সাইলিসিয়া প্রভৃতি যে সকল ঔষধ মস্তিষ্ক, পৃষ্ঠবংশীয় মজ্জা ও সৰ্ব্বাঙ্গীন স্নায়ুমণ্ডলে কাজ করে, সেই সব ঔষধের সঙ্গে একে অধ্যয়ন করা উচিত।

About The Author

M.D (AMCC, Kolkata, India) M.M (B.M.E.B) D.H.M.S (B.H.B)

Related posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!